অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

বাংলাদেশের শততম জয়

Print

স্পোর্টস ডেস্ক: তামিম ইকবালের ঝলমলে সেঞ্চুরিই শনিবার ওয়ানডেতে শততম জয়ের পথে এগিয়ে দেয় বাংলাদেশকে -ক্রিকইনফো

কোনো কোনো প্রতীক্ষা মনে হয় দীর্ঘ। শেষ হলে গুনগুন করে গাইতে ইচ্ছে করে, প্রতীক্ষা যদি হয় এত মধুর, হোক না তা। শততম জয়ের জন্য অপেক্ষাও দীর্ঘ মনে হচ্ছিল। যেন তর সইছিল না। প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান বলেই এই অধৈর্য। শেষমেশ তার অবসান হল তৃতীয় ওডিআইতে এসে। তামিম ইকবালের রেকর্ড শতকের হাত ধরে। যেনতেন জয় নয়। আফগানিস্তানকে ১৪১ রানের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশ পেয়ে গেল বহুল প্রতীক্ষিত ও প্রার্থিত ১০০তম জয়। এই জয়ের গরিমা ও মাহাত্ম্য বলে বোঝানো যাবে না। তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১-এ জিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন লড়াইয়ের জন্য আত্মবিশ্বাস পেয়ে গেল বাংলাদেশ।
এমন মাইলফলক স্পর্শ করা মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য যেমন মঞ্চের দরকার, শনিবাসরীয় মিরপুর ছিল ঠিক তাই। দর্শকে পূর্ণ। ক্ষণে ক্ষণে গ্যালারিতে গর্জন। তাতেই উজ্জীবিত হয়েই কিনা কে জানে, বাংলাদেশ সিরিজে এই প্রথম স্বরূপে আবির্ভূত হল। প্রথম দুটি ওডিআই থেকে একেবারে আলাদা। সেই চিরচেনা অকুতোভয় রূপ। ব্যাটে-বলে দ্যুতি ছড়ানো। প্রিয় সতীর্থ ও বন্ধু সাকিব আল হাসানকে টপকে বাংলাদেশের হয়ে তামিম ইকবালের রেকর্ড সপ্তম শতক (১১৮) এবং সাব্বির রহমানের ফিফটিতে (৬৫) বাংলাদেশ পেয়ে যায় ২৭৯ রানের পুঁজি। মাহমুদউল্লাহর ২২ বলে অপরাজিত ৩২ রানের কথাও বলতে হয়। ২৮০ তাড়া করে জেতার সামর্থ্য আফগানদের রয়েছে কিনা, সেই প্রশ্ন তোলা অবান্তর। শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের আলোয় ওরা যখন নিভে গেল ১৩৮ রানে, লাল-সবুজ শিবির তখন আলোকছটায় উদ্ভাসিত।
আফগানিস্তান যে বাংলাদেশের সমকক্ষ নয়, এই ফলাফলে তা প্রতিভাত হয়ে উঠল সুস্পষ্টভাবে। প্রথম দুটি ওডিআইতে ওরা লড়াই করে একবার হেরেছে এবং একবার জিতেছে। সেই লড়াইটা কাল উড়ে গেল কর্পূরের মতো। প্রায় সাড়ে আট বছর পর বাংলাদেশ দলে ফেরার সার্থকতা প্রমাণ করে স্পিনার মোশাররফ হোসেন তিন উইকেট নিলে আফগানিস্তান ১৩৮-এ বুকড হয়ে যায় ৩৪ ওভারের মধ্যে। আফগানদের ইনিংসের ইতি টানেন অবশ্য শফিউল ইসলাম। দৌলত জাদরানকে আউট করে। রহমত শাহ ৩৬ ও নওরোজ মঙ্গল ৩৩ রান করেন। ম্যাচসেরা ও সিরিজসেরা হয়েছেন তামিম। প্রথম ওডিআইতে বাংলাদেশ ৭ রানে এবং দ্বিতীয়টিতে আফগানিস্তান দুই উইকেটে জিতেছিল।

আগের ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং পাওয়ার জন্য আফসোস করেছিলেন মাশরাফি মুর্তজা। সেই মাশরাফিই কাল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং নিলেন। ব্যাটিং নেয়ার কারণও সহজ। কাল ছিল প্রথম ম্যাচের উইকেট, রোদেলা দিনে ব্যাটসম্যানদের জন্য সহায়ক। এমন উইকেটে বোলিং নেয়ার চিন্তাই করেনি স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের শুরুটা দেখে অবশ্য মিরপুরের পিচকে ব্যাটিংবান্ধব মনে হয়নি। তবে ওপেনার সৌম্য সরকারকে দ্রুত হারানোর পরও তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি ও সাব্বির রহমানের হাফসেঞ্চুরিতে আট উইকেটে ২৭৯ রান করে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করলেন তামিম। সিরিজে প্রথমবারের মতো অলআউট হল না টাইগাররা।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে এতদিন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসটা ছিল তামিম ইকবালেরই। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৮০ রান করেছিলেন। কাল নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন তামিম। দু’দলের লড়াইয়ে প্রথম সেঞ্চুরিটি পেয়ে গেলেন তিনি। ফিরতে পারতেন এক রানেই। তবে ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই মিড-অনে তার সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন আফগান অধিনায়ক স্টানিকজাই। একই সঙ্গে নিজেদের দুঃখও ডেকে আনে সফরকারীরা। তামিমের ক্যাচ ছাড়লেও উইকেটের পেছনে সৌম্য সরকারের ক্যাচ মিস করেননি মোহাম্মদ শাহজাদ। নিজেকে হারিয়ে খোঁজা এই ব্যাটসম্যানকে মাত্র ১১ রানেই ফিরিয়ে দেন মিরওয়াইজ আশরাফ। দলের রান তখন ২৩। ওয়ানডেতে তিন নম্বর জায়গাটা কেউ পাকা করতে পারছেন না। প্রথম ম্যাচে নেমেছিলেন ইমরুল কায়েস, দ্বিতীয় ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, কাল নামলেন সাব্বির রহমান। টি ২০ ক্রিকেটে সাব্বিরের জন্য এই জায়গাটা পাকা হলেও ওয়ানডেতে তার জায়গা ৬-৭-এ। ওয়ানডেতেও তাকে পরীক্ষা করিয়ে নিলেন কোচ। তবে সাব্বিরকেও দ্রুত ফিরিয়ে দেয়ার সুযোগ পেয়েছিল আফগানরা। কিন্তু উইকেটের পেছনে সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। প্রথম দুই ম্যাচে রান না পাওয়া সাব্বির কাল নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

দ্বিতীয় উইকেটে তামিম ও সাব্বির মিলে তুলে ফেলেন ১৪০ রান। তারা যখন ব্যাট করছিলেন বাংলাদেশের রানটা তখন তিনশর বেশিই হবে বলে মনে হচ্ছিল। সাব্বির প্রথমে দেখেশুনে ব্যাট করার চেষ্টা করেছেন। তবে সেট হওয়ার পর দারুণ সব শট খেলেছেন। শেষ পর্যন্ত ৭৯ বলে ছয় চার ও তিন ছয়ে ৬৫ করে আউট হন। সাব্বির আউট হলেও তামিম ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান। ১১৮ বলে ১১টি চার ও দুটি ছয়ে ১১৮ রান করে ফেরেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নবীর বলে আউট হয়েছেন তামিম। লং-অফ দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে বদলি খেলোয়াড় নাভিন উল হকের হাতে ক্যাচ দেন। দলের রান তখন ২১২। কিন্তু তামিমের বিদায়ের পর চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সাকিব চতুর্থ বলে একটা চার হাকালেও পরে রান নিতে বেগ পেতে হয়েছে তাকে। ১৭ রান করতে বল খেলেছেন ৩৫টি।

সাকিবের মতো উইকেটে থিতু হতে পারেননি মুশফিকুর রহিম (১২), মোসাদ্দেক হোসেন (৪) ও মোশাররফ হোসেন (৪)। একটা সময় তিনশ’র আশা দূর দিগন্তে মিলিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে ২৫০ রান করাই যেন কঠিন মনে হচ্ছিল। তবে আফগানিস্তানের মিস ফিল্ডিং এবং শেষদিকে মাহমুদউল্লাহর ২২ বলে ৩২* রানই ২৭৯ পর্যন্ত নিয়ে যায় দলকে। আফগানিস্তানের সেরা বোলার রাশিদ খান ও মোহাম্মদ নবী। দু’জনেই দুটি করে উইকেট নেন।

দৈনিকচিত্র.কম/এম




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: