অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রমযান, ১৪৪০ হিজরী

বালিয়াকান্দি ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে  মামলা 

Print

বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি : গ্রাম পুলিশ দিয়ে জোড়পুর্বক ধরে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রেখে শালিসের নামে প্রকাশ্যে দু,সহদরকে মারপিট ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর গ্রহন করার অভিযোগে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে রবিবার মামলা দায়ের হয়েছে।

মারপিটে শিকার উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের পোটরা গ্রামের গনেশ চন্দ্র মন্ডলের ছেলে সুদাংশু মন্ডল বাদী হয়ে রাজবাড়ী ১নং আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি তদন্ত পুর্বক বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জকে আগামী ২০ মার্চের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ প্রদান করেছেন।

মামলার আসামীরা হলো, জঙ্গল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জঙ্গল গ্রামের বেজমোহল বিশ্বাসের ছেলে নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, একই গ্রামের মৃত গদাই বিশ্বাসের ছেলে কৃষ্ণ বিশ্বাস, পোটরা (আগপোটরা) গ্রামের মৃত সুধন্য শিকদারের ছেলে স্বপন শিকদার, বহলাকুন্ডু গ্রামের চৈতন্য প্রামানিকের ছেলে অর্জুন প্রামানিকসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৭জন। মামলা সুত্রে জানাগেছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে জঙ্গল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বিবাদীদের আত্বীয় হওয়ার সুবাদে বাদী পক্ষকে ক্ষয়ক্ষতি করার জন্য গভীর ভাবে ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করে। চেয়ারম্যান একজন উগ্র স্বভাবের লোক ও বদমেজাজী হওয়ার কারণে ইতিপুর্বে এলাকার অনেক নিরীহ লোককে ডেকে নিয়ে শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে। গ্রামের অসহায় নিরীহ লোক চেয়ারম্যানের লাঠিয়াল বাহিনীর ভয়ে কেউ কোন প্রতিবাদ করতে পারে না। গত ১৫ জানুয়ারী সকাল ৬টার দিকে আসামীগন পরস্পর যোগসাজসে চেয়ারম্যান তার লাঠিয়াল বাহিনীকে হুকুম দিয়ে বাদীর দাদা হার্টের রোগী রমেশ চন্দ্র মন্ডল (৭০) কে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় ধরে জঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের আনার হুকুম দেয়। ওই হুকুম পেয়ে গ্রাম পুলিশ সদস্য অর্জুন প্রারামানিক ও কৃষ্ণ বিশ্বাসসহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা বাদীর বাড়ীতে তার দাদাকে গিয়ে খুজে না পেয়ে রাসখোলা বাজারে এসে জোড়পুর্বক তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তুলে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে। তার দাদাকে তুলে আনার কথা শুনে বাদী সুদাংশু মন্ডল দুপুর ২টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদে এসে দেখতে পান জঙ্গল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাসসহ সকল আসামীগন তারা দাদাকে মারপিট করছে। তখন বাদী তার দাদাকে ঠেকাতে গেলে বাদীকেও মারপিট করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আটকে রাখে। বেশ কয়েক ঘন্টা পর চেয়ারম্যানের নির্দেশে বাদীর দাদার কাছ থেকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। সাদা কাগজ দিয়ে মুল্যবান জামানত তৈরী করতে পারে এবং জীবন নাশের হুমকি দিয়ে প্রকাশ করে, কোনরুপ মামলা মোকর্দ্দমা করলে জানে শেষ করে ফেলবো, ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেব বলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাড়িয়ে দেয়।

মারপিটের শিকার হয়ে বাড়ীতে যাওয়ার পর বাদীর দাদা রমেশ চন্দ্র মন্ডল অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৭ জানুয়ারী বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.