অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৫ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

বিএনপির চরিত্রের কোনো বদল হয়নি: প্রধানমন্ত্রী

Print

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির চরিত্রের কোনো বদল হয়নি। যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়স্বজনদের নবগঠিত কমিটিতে স্থান দিয়ে বিষয়টি তারা পুরো জাতির কাছে স্পষ্ট করেছে। ৫শ’ জনের একটা তালিকা দিয়ে তারা একটা কমিটি গঠন করেছে। যেখানে যুদ্ধাপরাধী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী, হত্যা, খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িত, হানাদারদের সহযোগিতা করার জন্য যাদের এই বাংলার মাটিতে বিচার হয়েছে, তাদেরকে রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনাজনিত আহত এবং নিহত সাংবাদিক পরিবারের জন্য বাংলাদেশ জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট (বিজেডবিøউটি)-এর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান অন্ষ্ঠুানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে এ সময় বলেন, সব ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের মানুষ এদেশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করবে। আর এই লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এখানে কোনো সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ ও যুদ্ধাপরাধীদের স্থান হবে না। দেশের চলমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই এ ধরনের বিচার কোনো নতুন ঘটনা নয়। দেশে প্রায় ২১ বছর যুদ্ধাপরাধী চক্র শাসন ক্ষমতায় থাকায় তারা অবৈধ বিত্ত-বৈভবের পাহাড় গড়ে তুলেছে। যে কারণে নানাভাবে বিচারকে প্রভাবান্বিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা আমাদের নীতিতে অটল রয়েছি। আমরা এই বিচার কার্যকে এগিয়ে নিয়ে যাব এবং এজন্য ক্ষমতায় থাকা বা না থাকা, জীবন-মৃত্যু কোন কিছুরই আমরা তোয়াক্কা করি না। তিনি বলেন, ক্ষমতা কোন ভোগের বিষয় নয়। ক্ষমতা হচ্ছে মানুষের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট স্থাপনে আমার ব্যক্তিগত আগ্রহ কাজ করেছে। আপনারা (সাংবাদিক) কেউ আমাকে কোনো পরামর্শ দেননি। নিজ উদ্যোগে করেছি। এ বিষয়ে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম জাতির পিতার কাছ থেকে। কেননা জাতির পিতা সংবাদপত্রে কাজ করতেন। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও মহাসচিব ওমর ফারুক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শাবান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে সিনিয়র সাংবাদিক রাহাত খান, গোলাম সারোয়ার, আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমানসহ তথ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ১৯৬ সাংবাদিক এবং সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রী অনুদানের চেক তুলে দেন। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে জাতীয় সংসদে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট বিল পাস হয়। এর ভিত্তিতে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সরকার এই ট্রাস্ট গঠন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না, স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, দেশের মানুষের শান্তিতে বিশ্বাস করে না, উন্নয়নে বিশ্বাস করে না, এটাই হলো বাস্তবতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ক্ষমতায় থাকাকালে জঙ্গিবাদের বিস্তৃতি হয়েছে, বাংলা ভাইয়ের সৃষ্টি হয়েছে। যারা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছে। বিএনপি-জামায়াত জোট জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করেছে, উসকে দিয়েছে। তখন আওয়ামী লীগ নেতাদের খুন করে আট টুকরা করেছে। দেশে বীভৎস, ভয়ংকর পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছিল। ওই সময় সংবাদপত্রগুলোও তাদের নির্যাতন, হত্যা, খুনের সংবাদ প্রকাশ করার সাহস পেত না। সাংবাদিকদের ওপর তারা অমানষিক নির্যাতন চালাত। সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আপনারা স্বোচ্চার ছিলেন আরও স্বোচ্চার হতে হবে। এই দেশে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের মাঝে যদি আমরা সচেতনতা গড়তে পারি তাহলে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে বেসরকারি খাতে ইলেকট্রনিক মিডিয়া উন্মুক্ত করে দেয়া হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর একটাই উদ্দেশ্য ছিল, আমাদের দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সরকারের সমালোচনায় আহŸান জানিয়ে তিনি বলেন, যত খুশি সমালোচনা করুন, আপত্তি নাই। তবে সে সমালোচনা অবশ্যই গঠনমূলক হতে হবে। গণমাধ্যমের সমালোচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি যে কোনো ভুল সংশোধন করতে চাই। সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা ও কাজের ধরনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা অবশ্যই রয়েছে, কিন্তু সে স্বাধীনতা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে উপভোগ করতে হবে। অনলাইন পত্রিকার জন্য নীতিমালা করা জরুরি বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনলাইন পত্রিকা ব্যাপকভাবে বের হচ্ছে। তবে এর কোনো নীতিমালা নেই। ইতিমধ্যে আমরা এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছি। লাইভ সংবাদ পরিবেশন এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সকলকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এমন কোনো সংবাদ যেন পরিবেশন না হয় যা সরকারের কোনো অপারেশনের তথ্য সন্ত্রাসী তথা জঙ্গিদের জানিয়ে দেয়। এমন কোনো ছবি যেগুলো শিশুদের মনস্তাত্তি¡ক বিকাশের সমস্যা ঘটাতে পারে, তা প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে হবে।
সাংবাদিক হত্যার বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক হত্যার বিচারের জন্য সবার সহযোগিতা দরকার। এরই মধ্যে এক সাংবাদিক হত্যার বিচার হয়েছে। অনেকগুলো মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দেশের সব সাংবাদিক হত্যার বিচার করা হবে। কেউই তা বন্ধ করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার তৎকালীন পূর্ববঙ্গের প্রতিনিধি ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে এ সম্পর্কে অনেক কথাই লিখেছেন। সেদিক থেকে আমিও গণমাধ্যম পরিবারেরই একজন সদস্য।
এর আগে সাংবাদিক নেতারা তাদের বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রধান দুটি দাবি তুলে ধরেন যার একটি নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা এবং অপরটি ১৯৭৪ সালে গঠিত নিউজপেপার এমপ্লয়িজ সার্ভিসেস ফাউন্ডেশন অ্যাক্ট-১৯৭৪ এর পুনর্বহাল। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, পৃথক ওই আইনটি প্রণয়ন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সংবাদপত্র তথা সাংবাদিকতা পেশাকে মর্যাদার আসনে তুলে এনেছিলেন। ২০০৬ সালে সাংবাদিকতাকে শ্রম আইনের আওতায় ফেলে ওই মর্যাদা ছিনিয়ে নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সকল দাবিই সময় অনুযায়ী বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে নতুন ওয়েজ বোর্ড গঠন সম্পর্কে বলেন, ‘অষ্টম ওয়েজ বোর্ড আমরা দিয়েছি। আপনারা নবমের দাবি তুলেছেন। এখানে মন্ত্রী আছেন, আমি বলবো, যথাযথ ব্যবস্থা নিতে।’ অনুষ্ঠানে ডেইলি অবজারভারের পক্ষ থেকে বিজেডবিøউটি’র জন্য অবজারভার সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: