অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

‘বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের দল হতে পারে না’

Print

রাজশাহী থেকে সংবাদদাতা : দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শিবির-বিএনপিকে নির্মূল করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। তিনি বলেন, রাজশাহীতে আসতে অনেকে ভয় পান। অথচ এই সুন্দর শহরটিতে আমি বারবার ছুটে এসেছি। রাজশাহীতে অনেক বধ্যভূমি আছে যা একসময় শিবির-বিএনপি দখল করে নিয়েছিল। আপনারা আন্দোলন করে তা দখলমুক্ত করেছেন। শিবির-বিএনপি বাংলাদেশে রাজশাহীতে পাকিস্তানি ছিটমহল তৈরি করেছে, আপনাদের সেগুলো মুক্ত করতে হবে। অনেকে বলেন তারা গণতান্ত্রিক দল। কিন্তু আমি বলি পাকিস্তানি দল। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের দল হতে পারে না। তারা জামায়াত নেতা নিজামীর যুদ্ধাপরাধকে সমর্থন করে সমান অপরাধ করেছে। আমাদের ফৌজদারি আইনেও একথা বলা আছে। জামায়াতের সঙ্গে সঙ্গে তাদেরও এদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই।

রাজশাহীতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধ বিচার আন্দোলনের পথিকৃৎ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ও প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন এসব কথা বলেন। শুক্রবার বিকেলে রাজশাহী কলেজ চত্বরে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য এ শিক্ষাবিদকে সম্মাননা জানান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাজশাহীর বিভিন্ন সংগঠন।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনপি-জামায়াত কী করে এদেশে রাজনীতি করে? খালেদা-গয়েশ্বর কী করে মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করে কথা বলে। সেদিন এর প্রতিপাদে রাজপথ ভরে যাওয়ার কথা ছিল। এ বোধটা থাকতে হবে। আপনাদেরও এর প্রতিবাদ জানানো শুরু করতে হবে। নেতার নির্দেশের অপেক্ষায় থাকলে হবে না।

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন আরও বলেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে কল্যাণ ট্রাস্টে দিতে বলেছি। মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকার আইনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছি। এসবের দরকার আছে। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের পর গত ৪৪ বছরে ৩০ লাখ শহীদের পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়েছে। অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জমি দেয়া হয়েছে। কী লজ্জার কথা!

তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদের ঋণ আমরা শোধ করতে পারব না। তবে দেশের জন্য কাজ করে তা স্বীকার করতে পারব। নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। ’৭১-এর জেনারেশন হিসেবে আমরা যা করতে চেয়েছিলাম সেটা করতে পেরেছি। বর্তমান প্রজন্মকেও তাই করতে হবে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, ইতিহাস পণ্ডিত কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখার বিষয় নয়। ইতিহাসের জ্ঞানকে ছড়িয়ে দিতে হবে। ইতিহাসবিদকেও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করতে হবে। আজকে ইতিহাসের শিক্ষকদের এত সংগঠন আছে অথচ তারা দেশের জাতীয় তিন দিবস, ২৬ মার্চ, ১৫ আগস্ট ও ১৬ ডিসেম্বর পালন করেন না। এগুলো দেশের জনমানুষের অনুষ্ঠান। এগুলো পালন না করলে আমরা মানুষ থাকি না।

রাজশাহী কলেজে ড. মুনতাসীর মামুনের সংবর্ধনা ও দুই দিনব্যাপী ইতিহাসের বইমেলার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী রাজশাহী মহানগর শাখা। অনুষ্ঠানে ভাষাসৈনিক আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে ও উপাধ্যক্ষ কামরুজ্জামানের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন, রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, কবিকুঞ্জের সাধারণ সম্পাদক কবি আরিফুল হক কুমার ও বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহীন আক্তার রেনী। মুনতাসীর মামুনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: