অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

বিমানবন্দরে আনা হচ্ছে আধুনিক যন্ত্র

Print

চিত্র রিপোর্ট: হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পণ্যের নিরাপত্তা ও জট কমাতে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের জন্য কেনা হচ্ছে ১৫ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। বিমানবন্দরে পণ্য খালাসে নানামুখী সমস্যার কথা উল্লেখ করে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আকারে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে অধিদপ্তরের ওই আবেদন মঞ্জুর করেছে দুই মন্ত্রণালয়। যন্ত্রপাতি কেনার জন্য দ্রæতই দরপত্রের আহŸান করা হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যন্ত্রপাতিগুলো কেনা পণ্য খালাসে গতি আসবে। ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, অধিদপ্তরের যন্ত্রপাতি অভাব থাকার কারণে পণ্য বিমানবন্দর থেকে দ্রুত খালাস করতে বিভিন্ন বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। এতে পণ্যের জট লেগেই থাকে। তিনি আরও জানান, পণ্য খালাসসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম কেনার জন্য বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা আকারে পাঠানো হয়েছে। আশা করি খুব শিগগিরই ওই সরঞ্জামগুলো কেনা হবে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্র মতে, বিমানবন্দরে ফ্লাইট অবতরণ করার পর সেখান থেকে পণ্যগুলো টার্মিনালের পাশের গুদামে নিয়ে আসা হয়। ওই পণ্যগুলো বিমান থেকে নামার পরেই দ্রæতই সরানো যায় না। এর কারণ পণ্যগুলো সরানোর কাজে বড় কোনো পরিবহন নেই। ছোট দুটি ট্রাকে করে ওই পণ্য টার্মিনালের গুদামে নিয়ে আসা হয়। এতে করে পণ্যগুলো সেখানে জমা হয়ে থাকে। জমে থাকার কারণে রানওয়েতে প্লেন নামতে অসুবিধা হয়। মালবাহী বড় একাধিক ট্রাক থাকলে ওই পণ্যগুলো দ্রæত সেখান থেকে সরানো যাবে। সূত্র জানায়, অনেক দেরিতে ওই পণ্যগুলো টার্মিনালের গুদামে নিয়ে আসা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ওই পণ্যগুলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন শুল্ক কর্মকর্তারা। ওই পণ্যগুলো সঠিক মানের কি না বা সঠিক পন্থায় আমদানি করা হয়েছে তার নথিপত্র দেখা হয়। কিন্তু সেখানে পণ্যের জট লেগেই থাকে। কারণ সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণের স্ক্যানার নেই। একটি মাত্র মাঝারি স্ক্যানার দিয়ে ওই পণ্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। অথচ বিমানবন্দরে প্রায় প্রত্যেক দিন শতাধিক ফ্লাইট থেকে বিভিন্ন পণ্য খালাস হয়। এতোগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণের স্ক্যানার না থাকার কারনে সেখানে পণ্যের জট লেগে যায়। অনেক সময় বিভিন্ন পণ্য সময়ের অভাবে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারে না কর্তৃপক্ষ। যন্ত্রপাতির অভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেমন ভোগান্তির শিকার হন পাশাপাশি পণ্যের মালিকরাও ভোগান্তির মধ্যে পড়েন।
শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কোনো কোনো পণ্য আমদানি করা যাবে এবং যাবে না তা শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে কর্তৃপক্ষকে একটি তালিকা দেয়া রয়েছে। অনেক সময় কাঁচা পণ্য ল্যাবে পরীক্ষা করা লাগে। কিন্তু বিমানবন্দরে শুল্ক গোয়েন্দাদের কাছে কোনো ল্যাব নেই। সেটি পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য বুয়েেেট পাঠাতে হয়। বুয়েট থেকে ওই কাঁচা পণ্যের মান ঠিক থাকলে সেটির শুল্ক গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। অনেক সময় দুর্বৃত্তরা কাঁচা পণ্যের বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের অসাধু কতিপয় কর্মকর্তাদের ঘুষের বিনিময়ে পণ্য পরীক্ষা না করেই পণ্য খালাস করিয়ে নেয়। এতে চোরাই পণ্যের আমদানি বাড়ছে। ওই বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েকে প্রস্তাবনা আকারে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালের পণ্যের গুদামে গিয়ে দেখা যায়, প্লেন থেকে পণ্যগুলো নামিয়ে গুদামে রাখা হয়েছে। অনেক পণ্য ৭ দিন আগের হলেও সেটি মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। সূত্র জানায়, ওই পণ্যগুলোর বিষয়ে সন্দেহ থাকায় সেগুলোকে রেখে দেয়া হয়েছে। অধিক যাচাই-বাছাই করার পর সেগুলোকে মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে ঢাকা কাস্টমস হাউস এসোসিয়েশনের সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বাইরে থেকে পণ্য আমদানি করি। কিন্তু যন্ত্রপাতি না থাকার কারণে পণ্যগুলো আমাদের দ্রুত দেয়া হয় না। এতে প্রায়ই আমরা ক্ষতির মুখে পড়ি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: