অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

বিলবোর্ড না সরালে ম্যাজিস্ট্রেট যাবেন

Print

স্টাফ রিপোর্টার: অবৈধ বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, দেয়াল লিখন ও তোরণ সরিয়ে নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। নিজ দায়িত্বে না সরালে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। গতকাল গুলশানে উত্তর সিটি করপোরেশনের নতুন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যানার, বিলবোর্ড, ফেস্টুন টানাতে হলে অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি সামনে রেখে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন টানানোর ক্ষেত্রে তা মানছে না। এমন অভিযোগ করে মেয়র বলেন, কর্মসূচি শেষ হলেও এসব ব্যানার না সরানোয় সিটি করপোরেশন ব্যবস্থা নিয়েছে। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলের এরকম ২০০ বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে। বাকিগুলো অপসারণে ব্যাপক অভিযান চালানো হবে। যারা ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়েছেন, তারা দয়া করে নিজ দায়িত্বে এসব সরিয়ে নিন। না হলে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা এগুলো উচ্ছেদ করবে। মেয়র বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন দোকানপাট ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন হিসেবে লাগানো সাইনবোর্ডের কোনো অনুমোদন নেই। সে ব্যাপারেও দ্রæত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবো। এগুলো না সরালে জেল-জরিমানা করা হবে। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পরই অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণের কাজ শুরু করেছি। উচ্চ আদালতের নির্দেশের পর সিটি করপোরেশনের অবস্থান আরো কঠোর হয়েছে। এ সময় তার গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে তুলে ধরেন আনিসুল হক। জানান, ‘নগর অ্যাপের’ সাহায্যে সহজেই নাগরিক ভোগান্তি নিয়ে অভিযোগ করা যাচ্ছে। সেগুলোর সমাধানও দেয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, চার বছর আগে হাইকোর্টের এক আদেশে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পাবলিক স্থাপনায় অবৈধ ও বেআইনিভাবে স্থাপিত হোল্ডিং, পোস্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখনসহ সব প্রচারণা উপকরণ অপসারণে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে (উত্তর ও দক্ষিণ) সময় দেয়া হয়। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ই আগস্ট হাইকোর্ট আরেকটি আদেশে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সেসব অপসারণে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছিল কিনা তা জানতে চেয়েছেন। আগামী সোমবারের মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বাস্তবায়নের তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার আদালতের আদেশের জবাব দেবেন জানিয়ে মেয়র বলেন, এখনো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙাচ্ছেন। এটাকে আর প্রশ্রয় দেয়া হবে না। তারা স্বেচ্ছায় সেসব সরিয়ে না ফেললে উচ্ছেদ করা এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ব্যানার, তোরণ বসানো হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা ঠিক। তিন-চারজন কাউন্সিলর এমন কাজ করছেন। তাদের ব্যক্তিগতভাবে বলেছি সেগুলো সরিয়ে নিতে। আজকের পরে নিশ্চয়ই কাউন্সিলররা আরো সচেতন হবেন।’
এখনই আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে অনুরোধ করা হচ্ছে কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, আইনি ব্যবস্থা চাইলে নেয়া যায়। এর বদলে শান্তি-সম্প্রীতির মাধ্যমে তা সমাধান করতে চাই। অনুরোধে অনেক কাজ হয়েছে। আশা করছি কঠোর হতে হবে না। সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে বেশ কিছু বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, দুই বছরের মধ্যে ভবন রং করা না হয়ে থাকলে তা রং করানো, দেয়ালে বা অন্যত্র অননুমোদিতভাবে পোস্টার বা ব্যানার না লাগানো, ফুটপাথে র?্যাম্প (গাড়ি উঠানো-নামানো ঢালুপথ) না বানানো, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সিটি করপোরেশর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যরে চেয়ে বড় আকারের সাইনবোর্ড ব্যবহার না করা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: