অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ২৪শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

ভাড়াটিয়াদের দেয়া হবে আইডি নম্বর

Print

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা মহানগরীর প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে একটি করে আইডি নম্বর দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান। বলেন, এই আইডি নম্বর দেয়া হলে কোনো ভাড়াটিয়া বাসা বদল করলেও তাদের ট্র্যাকিং করতে আমাদের কোনো অসুবিধা হবে না। ভাড়াটিয়ারা যখন এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় যাবেন তখন ওই আইডি নম্বর ব্যবহার করে তাদের খুঁজে বের করা যাবে। তিনি আরো বলেন, যখনই কোনো ভাড়াটিয়া বাসা বদল করবেন তখন বাড়িওয়ালা পুলিশকে জানালে পুলিশ ওই আইডি নম্বরটি সংশ্লিষ্ট থানায় জানিয়ে দেবে। গতকাল ডিএমপি কমিশনার ডিএমপি সদর দপ্তরে ওয়েবসাইট রি-লঞ্চিং অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। এ সময় ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান, মনিরুল ইসলামসহ ডিএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আছাদুজ্জামান বলেন, এ পর্যন্ত ২০ লাখ ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন এই তথ্যগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করা হচ্ছে। আমার পুলিশের লোক প্রত্যেকের বাসায় যাবে। তারা তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করবে। এরপর এসব তথ্য থানাভিত্তিক, বিটভিত্তিক, মহল্লাভিত্তিক, হোল্ডিংভিত্তিক করে ডাটাবেজে ঢুকিয়ে দেবো। ভাড়াটিয়াদের এসব ফরম ডিএমপি’র ওয়েসবাইটে দিয়ে দেয়া হবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা ঢাকা মহানগরীতে পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক এলাকায় বøক রেইড করছি। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে যাতে সন্ত্রাসী-জঙ্গিরা বাসা ভাড়া নিয়ে কোনো ধরনের নাশকতা বা অপতৎপরতা করতে না পারে। ইতিমধ্যে অনেকেই আমার কাছে অভিযোগ করেছেন যে, মেসগুলোতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করার কারণে বাড়িওয়ালারা ব্যাচেলরদের মেস ভাড়া দিতে চাচ্ছেন না। তিনি বলেন, বাড়িওয়ালাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, ব্যাচেলরদের বাড়িভাড়া দিতে। এ ব্যাপারে কোনো বাধা বা নিষেধ নেই। কিন্তু বাসা ভাড়া দেয়ার সময় ভাড়াটিয়াকে জানুন। তাদের ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ফটোকপি, এক কপি ছবি নিয়ে কাছের থানায় জানান। এটা নিয়ে যাতে অন্য কোনো ধরনের ব্যবসা বাণিজ্য না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহŸান জানাচ্ছি। আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ইতিমধ্যে পুলিশকে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা যখন বøক রেইড করি তখন জনগণ যাতে কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে সতর্ক থাকার জন্য চেষ্টা করা হয়। মেস বাসা বাড়িতে আমরা রেইড করতেই পারি, জননিরাপত্তার স্বার্থে। কিন্তু যদি তারা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে পারে এবং যদি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বা যেখানে তারা কাজ করে সেখানকার আইডি দেখাতে পারে তাহলে তাদের কোনোভাবেই যাতে হয়রানি না করা হয় এজন্য সকলকেই কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। কমিশনার বলেন, আমরা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে কাজ করছি। এটা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেটি আমাদের লক্ষ্য থাকবে। তারপরও যদি কেউ হয়রানির শিকার হয়, তাহলে আমাদের অবহিত করুন। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণের হয়রানি বা বিড়ম্বনা করে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ওয়েবসাইট রি-লঞ্চিংকালে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই ওয়েবসাইটটিতে নতুন নতুন অনেক ফিচার সংযোজন করা হয়েছে। আগে প্রয়োজনীয় অনেক ফিচার এখানে ছিল না। ফলে জনগণ ব্যবহার করে সুবিধা পেতো না। বিষয়টি অনুধাবন করে কিভাবে আরও বেশি জনবান্ধব হওয়া যায়, সেটি চিন্তা করে ওয়েবসাইটটি ঢেলে সাজানো হয়েছে। কমিশনার বলেন, ডিএমপি’র নতুন নতুন ফিচার সংযোজনকৃত ওয়েবসাইটে ডিএমপি সম্পর্কে জানা, অর্গানোগ্রাম সম্পর্কে জানা, নিউজ পোর্টাল, ডিএমপি’র ফেসবুক, সিকিউরিটি টিপস, ট্রাফিক অ্যাওয়ারনেস, বিট পুলিশিংসহ সবকিছু এখানে পাওয়া যাবে। বিট পুলিশিং আপডেট তথ্য ও যোগাযোগ নাম্বার, এলাকাভিত্তিক বিট চিহ্নিত করা, ওয়ানস্টপ সার্ভিস, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারসহ নানারকম তথ্য এখন ওয়েবসাইটে সংযোজন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করা হয়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: