অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ই জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

মন্ত্র দিয়ে গেলেন আকিব

Print

স্পোর্টস রিপোর্টার: কেমন বোলার হবেন আপনি? শোয়েব আক্তার, ব্রেট লির মতো? নাকি ইরফান, আসিফ, ভাস, মালিঙ্গা, মোস্তাফিজের মতো? গতিদানব হবেন নাকি বাউন্সার, ইয়র্কারে ব্যাটসম্যানদের উড়িয়ে দেবেন? নাকি সুইংয়ে পরাস্ত করবেন প্রতিপক্ষকে? নিজেকে চিনে তো বোলাররা! তাদের শক্তি কি সেটি জানেন তারা! এককথায় নিজেকে না চিনলে কোনোদিন ভালো কিছু করতে পারবেন না বলে বিশ্বাস করেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা পেসার বর্তমান বিশেষজ্ঞ কোচ আকিব জাভেদ। তাইতো নিজেকে চেনার সেই মন্ত্র দিয়ে গেলেন বাংলাদেশের পেস বোলারদের মধ্যে। মাত্র ৮ দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে হাইপারফরম্যান্স ইউনিটের (এইচপি) বোলিং পরামর্শক হয়ে এসেছেন তিনি। মাত্র ৬টি সেশনে কাজ করেন। এর মধ্যে চারটি সেশন এইচপির ১৭ পেসারকে নিয়ে। আর শেষ দুদিন কাটান জাতীয় দলের পেসারদের নিয়ে। আজ সন্ধ্যায় তিনি পাকিস্তানের পথে উড়বেন। গতকাল সংবাদমাধ্যমে এই সংক্ষিপ্ত সফরে কি মন্ত্র দিলেন তা নিয়ে কথা বলেন। আকিব বলেন, ‘পেস আক্রমণের ব্যাপারে বলতে গিয়ে আমি ওদের সামনে শোয়েব আকতার, ব্রেট লি ও শন টেইটের উদাহরণ দিয়েছি। বাউন্সারে বলেছি মো. ইরফানের কথা আর সুইংয়ের ক্ষেত্রে উদাহরণ টেনেছি মোহাম্মদ আসিফের। আমি ওদের জানাতে সাহায্য করেছি কী করে চাপের মধ্যেও বল হাতে সারভাইভ করতে হয়। একজন বোলার যদি নিজেকে না চিনে তাহলে সে তার সেরাটা দিতে পারবে না। আসলে প্রথমে নিজের শক্তি কি চিনতে হবে, জানতে হবে। তাহলে তো মাঠে সেটা প্রয়োগ করা সম্ভব।’
৬ দিন মাত্র তিনি নিজের অভিজ্ঞতা তরুণ পেসার ও জাতীয় দলের পেসারদের সঙ্গে ভাগাভাগির সুযোগ পান। বিসিবির ইচ্ছাও তাকে ফের বাংলাদেশে নিয়ে আসার। তবে আকিব নিজের অবস্থানে অনড়। স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ তিনি হতে চান না। আবার ৬ দিনকে সংক্ষিপ্ত বললেও যথেষ্ট মনে করেন। আকিব বলেন, ‘যদি স্থায়ীভাবে কোচের কথা হয়, তাহলে আমি রাজি নই। তবে আমি আবার আসবো। সত্যি কথা বলতে কি, ৬ দিন অল্প হলেও শেখানোর জন্য কমও নয়। এইচপির ওদের অভিজ্ঞতা কম, তাই ওদের অনেক কিছু বলা যায়। কিন্তু জাতীয় দলের ওদের দুদিন বলেই মনে হয়েছে আমার আর কিছু বলার নেই। কারণ, যারা অভিজ্ঞ তারা টেকনিক জানে, তাদের আসলে শেখানোর কিছু নেই। তবে তাদের উন্নতির জন্য সাহায্য করা যায়। সত্যি কথা হলো, আলোচনা যদি সঠিক বিষয় নিয়ে হয় তাহলে বেশি সময় লাগে না।’ এরপর আগ্রহের কমতি নেই মাশরাফিদের দুদিন তিনি কী শিখালেন তা জানার। আকিব বলেন, ‘বুধবার আমি ওদের শিখিয়েছি কিভাবে একটি ম্যাচে তিন পর্বের বোলিং আনতে হয়। ম্যাচে নতুন বল দিয়ে কি করে পেস নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়, কেমন ডেলিভারি দিলে মেডেন ওভার পাওয়া যাবে। পাশাপাশি আমি তাদের এটাও শিখিয়েছি, ম্যাচে একটি নতুন, সেমি নতুন ও পুরাতন বল কতটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়।’
অন্যদিকে বোলারদের পরিশ্রম ও অনুশীলনের প্রতিও জোর দেন তিনি। তবে সেটি যেন সঠিক নিয়মে করা হয় সেটাই জানানো ছিল তার বড় লক্ষ্য। আকিব মনে করেন, সারা দিন অনুশীলনের চেয়ে এক ঘণ্টা অনুশীলনও যদি সঠিক নিয়ম মেনে করা হয় তাহলে সেটিই হবে কাজের। তিনি বলেন, ‘অনুশীলনই মানুষকে সঠিক পথ দেখায়।’ এটা আমরা ভালো করেই জানি। কিন্তু আমি মনে করি সঠিক অনুশীলনই মানুষকে সঠিক পথ দেখায়। এছাড়াও আমরা আলোচনা করেছি কী করে সঠিক পদ্ধতিতে অনুশীলন করতে হয়। অনুশীলনে কঠোর পরিশ্রমের প্রতি আমি তাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলেছি। ওদের শেখাতে চেষ্টা করেছি কি করে ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করার চ্যালেঞ্জটি নিতে হবে, আর কি করলেইবা কুপোকাৎ হবে একজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। আমি ওদের আরো একটি বিষয় খুব ভালোভাবে বোঝাতে চেষ্টা করেছি। সেটা হলো কোন পদ্ধতি অবলম্বন করলে ম্যাচে লাইন, লেন্থ ও অ্যাকিউরেসি বজায় রেখে বল করা যাবে। কি করে একজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে ইয়র্কার দিয়ে আউট করা যাবে। আর কিভাবেইবা ছয় বলে ছয়টিই ইয়র্কার দেয়া যাবে।’




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: