অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

মানসিক চাপমুক্ত হতে গরু থেরাপি

Print

অনলাইন ডেস্ক : স্বপ্নের দেশ সুইজারল্যান্ড। এ দেশের নাগরিকদের বলা হয় সবচেয়ে সুখী মানুষ। তবে এখানেও রয়েছে তীব্র মানসিক চাপ। আর চাপমুক্ত হতে এখানে প্রচলিত রয়েছে গরু থেরাপি। গরুর সান্নিধ্যে থেকে মানসিক চাপ দূর করার এক অভিনব থেরাপি করেন এখানকার মানুষ। আশ্চর্য এই থেরাপির নাম ‘কাউ কাডলিং থেরাপি’। কীভাবে এলো এই থেরাপি? এটা জানতে হলে একটু পিছনে যেতে হবে।
সুইজারল্যান্ডের ছোট্ট শহর টেনিনক্যান। এখানে বাস করেন সিবিল ইয়ুগার্টের পরিবার। পারিবারিকভাবেই তারা গরু প্রতিপালন ও দুগ্ধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ২০১৪ সালে তাদের খামারে প্রায় একই সময়ে তিনটি গাভী তিনটি বাচ্চা প্রসব করে। কিছু দিন যেতে সিবিল ইয়ুগার্টের বাবা বুঝতে পারেন তিনটি বাচ্চার কোনোটিই তাদের দুগ্ধ ব্যবসার জন্য উপকারি নয়। ফলে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন তিনটি বাচ্চাই বিক্রি করে দেবেন।
বাবার এই পরিকল্পনায় বাদ সাধেন সিবিল। তিনি গরু তিনটিকে রেখে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে তার বাবা গরু তিনটিকে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনি শর্ত জুড়ে দেন যে সিবিলকেই গরু তিনটির দেখাশোনা করতে হবে। বাবার শর্ত মেনে সিবিল দিনের বেশির ভাগ সময় গরু তিনটির দেখাশোনা শুরু করেন। কিন্তু দিন যতই যায় সিবিলের কপালে চিন্তার ভাজ পড়তে শুরু করে। তিনি ভাবতে থাকেন কীভাবে এই বাড়ন্ত গরুর খাদ্য ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় মেটাবেন?
পরে সিবিলের মাথায় এক দারুণ বুদ্ধি খেলে যায়। তিনি একটি ক্যাটেল থিমড অ্যাডভেঞ্চার পার্ক করার পরিকল্পনা করেন। যেসব বাচ্চারা কখনো গ্রামীণ জীবনের ছোঁয়া পায়নি তারা সেখানে বেড়াতে আসবে, গরুর সঙ্গে সময় কাটাবে, তারা শিখবে কীভাবে দুধ উৎপাদন হয়, কীভাবে খামারে গবাদি পশু প্রতিপালিত হয় ইত্যাদি।
যেমন ভাবা তেমন কাজ। তিনি গরুগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। যেন গরুগুলো আরো বেশি নিরীহ ও মিশুক হয় এবং বাচ্চাদের কোনো ধরনের ক্ষতি না করে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ শেষে তিনি পার্কটি সাত বছরের বেশি বয়সি বাচ্চাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। একজন বাচ্চা ৫ সুইস ফ্রা দিয়ে গরুগুলোর সঙ্গে সারাদিন কাটানোর সময় পায়। এভাবেই সিবিলের ক্যাটেল থিমড অ্যাডভেঞ্চার পার্কের শুরু। কয়েক দিন যাওয়ার পর সিবিল লক্ষ্য করেন, তার পার্কে আসা বাচ্চারা যখন পার্কে আসে তখন যেরকম নিস্তেজ থাকে ফিরে যাওয়ার সময় তারা অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।
সিবিল তার এই পর্যবেক্ষণ থেকেই সিদ্ধান্ত নেন এই পদ্ধতি তিনি পূর্ণ বয়স্ক মানুষের ওপর প্রয়োগ করবেন। পরীক্ষামূলক প্রয়োগে তিনি সফল হন। তিনি দেখেন বয়স্করা গরুর সান্নিধ্যে সময় কাটানোর ফলে তাদের মানসিক চাপ দূর হয়। তারা চনমনে হয়ে উঠেন। বর্তমানে ক্যাটেল থিমড অ্যাডভেঞ্চার পার্ক থেকে সিবিল বেশ মোটা অংকের টাকা রোজগার করেন। দু’ঘণ্টার একটি কাউ কাডলিং সেশনের জন্য একজন বয়স্ক মানুষকে গুনতে হয় ৫০ সুইস ফ্রা। ফলে সিবিল ইয়ুগার্ট ও তার পরিবার যে গরু নিয়ে চিন্তিত ছিল সেই গরু নিয়েই এখন রীতিমতো গর্ব করেন। সূত্রঃ ডেইলিসান।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.