অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এক সোনা জয়

Print

স্পোর্টস ডেস্ক: আবেগ আর রেকর্ডে একাকার অ্যান্থনি আরভিন। অনেকটা চমকে দিয়েই রিও অলিম্পিকে ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল সাঁতারে সোনা জিতলেন যুক্তরাষ্ট্রের এ সাঁতারু। তার এই সোনা জয় আবেগ ও রেকর্ডের। অ্যান্থনি এই একই ইভেন্টে সোনা জিতেছিলেন ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকে। তারপর পেরিয়ে গেছে দেড় দশকের বেশি। ওই সোনা জয়ের ১৬ বছর পর ফের তিনি একই ইভেন্টে সোনা জিতলেন। গড়লেন বিশ্বরেকর্ড। ৩৫ বছর বয়সে তিনি এই সোনা জিতলেন। অলিম্পিকের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে সাঁতারে সোনা জয়ের রেকর্ড এটি। এর আগে এই রেকর্ড ছিল জীবন্ত কিংবদন্তি মাইকেল ফেলপসের। তিনি চলতি আসরেই ৩১ বছর বয়সে সোনা জিতে রেকর্ড গড়েন। কিন্তু তারই স্বদেশি আরেক সাঁতারুর কাছে এই রেকর্ড ভাঙলেন। অ্যান্থনির জীবনটা বড় উত্থান-পতনের। ২০০০ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে সোনা জেতেন। কিন্তু ২৩ বছর বয়সে সাঁতার থেকে অবসর নেন তিনি। জন্মস্থান হলিউড ছেড়ে নিউ ইয়র্কে বসবাস শুরু করেন। সেখানে একটি ট্যাটু পার্লারে কাজ শুরু করেন। সঙ্গে স্থানীয় একটি ব্যান্ড দলের সঙ্গে রকসংগীত গাইতেন। এরই মধ্যে ২০০৪ সালে সুনামি আঘাত হানে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। দুর্গত মানুষের জন্য মন কেঁদে ওঠে অ্যান্থনির। সুনামিদুর্গত মানুষের সাহায্যের জন্য অলিম্পিকে জেতা সোনার মেডেলটি বিক্রি করে দেন। সেটা থেকে পাওয়া ১৭ হাজার পাউন্ডের পুরোটাই সুনামিদুর্গত মানুষের সাহায্যে দান করে দেন তিনি। এই মানুষটিই কিছুদিন পর মানসিক বিষাদে পড়েন। কোনো এক কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এই অবস্থায় একবার একগাদা ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করতে উদ্যত হন। কিন্তু বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে থেকে সে যাত্রায় বেঁচে যান তিনি। নবজীবন পান অ্যান্থনি। চিকিৎসা নিয়ে আবারো স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন তিনি। আবারো সাঁতারে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০১১ সালে সিদ্ধান্ত পাল্টে ফের সাঁতারে ফেরেন। ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাঁতার দলের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি নেমেছেন রিও’র পুলে। ৩৫ বছর বয়সে পুলে নেমে যেন আরো ধারালো হয়ে উঠেছেন তিনি। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র দলের ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলে দলের সদস্য হিসেবে পুলে নামেন। দলকে সোনা জেতাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখান। আর এবার ব্যক্তিগত ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে সোনা জিতলেন অ্যান্থনি। এই সোনা জয়ের পেছনে জোড়া আবেগ কাজ করছে অ্যান্থনির। প্রথমত, সবচেয়ে বেশি বয়সী হিসেবে ১৬ বছর পর সোনা জয়ের রেকর্ড। দ্বিতীয়ত, গত মাসেই তিনি কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন। কিন্তু দলের সঙ্গে ট্রায়ালে থাকায় তিনি এখনো নিজের সন্তানের মুখ দেখতে পারেননি। তিনি সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অলম্পিক দলের সঙ্গে থাকায় সেটা সম্ভব হয়নি। সোনা জয়ের পর বিষয়টি সামনে এনে অ্যান্থনি বলেন, ‘আরে… এটা আমার জন্য বজ্রপাতের মতো। আমার মেয়েটাকে এখনো দেখার সুযোগ পেলাম না। এই সোনা জয়ের জন্যই তাকে আমি এখনো দেখতে পারিনি। তবে সোনা জয়ের পর তাকে মেসেজ পাঠিয়েছি।’




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: