অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

মেলানিয়ার নগ্ন ছবি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে

Print

অনলাইন ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের নগ্ন ছবি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে নিউ ইয়র্ক পোস্ট তার বেশ কিছু নগ্ন ছবি প্রকাশ করে। এসব ছবি ১৯৯৫ সালে ধারণ করা। তখন মেলানিয়ার বয়স ২৫ বছর। ওই সব ছবি ধারণ করা হয়েছিল নিউ ইয়র্কে। বিতর্কটা সেখানেই। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন ১৯৯৬ সালে তিনি বৈধ উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে গিয়েছেন। আর ওই ছবিগুলো ধারণ করা ১৯৯৫ সালে। তাহলে তিনি কি প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছিলেন? এমন প্রশ্ন এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিদ্যুৎবেগে। তাই অনলাইন সিএনএন লিখেছে, মেলানিয়া ট্রাম্পের মতে, তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কাহিনী একেবারে সাধারণ। তিনি এ বছর ২৯শে ফেব্রæয়ারি সিএনএনের উপস্থাপক এন্ডারসন কুপারকে বলেছিলেন, ‘আমি ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে এসেছি।’ কিন্তু ফরাসি ম্যাগাজিন ‘ম্যাক্স’-এ প্রকাশিত তার ওই নগ্ন ছবিগুলো নিউ ইয়র্কে ধারণ করা হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। তখন তিনি পরিচিত ছিলেন ‘মেলানিয়া কে’ নামে। এ কথা বলেছেন ‘মেলানিয়া ট্রাম্প: দ্য ইনসাইড স্টোরি’ নামের জীবনীগ্রন্থের লেখক বোজান পোজার। ফলে বিতর্ক এখানেই। যদি মেলানিয়া ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা বলে থাকেন তাহলে ১৯৯৫ সালে ওই ছবিগুলো ধারণ করতে কি তিনি অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করেছিলেন? তিনি কি কাজ করার জন্য যথাযথভাবে যে ভিসা লাগে তা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন? উল্লেখ্য, সেøাভেনিয়ায় জন্ম নেয়া মেলানিয়ার এখন বয়স ৪৬ বছর। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন ‘বৈধ উপায়ে’ ভিসা নিয়ে। তিনি নিজেই এন্ডারসন কুপারকে বলেছেন, আমি দু’এক মাস পর পরই সেøাভেনিয়া যেতাম। আবার ফিরে আসতাম। আমি গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম। এর কয়েক বছরের মাথায় আমাকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আমি আইন মান্য করেছি। আমি সঠিক পথ অনুসরণ করেছি। আমি অনুপ্রবেশ করিনি এবং এখানে থাকিনি। আমি মনে করি মানুষের তা-ই করা উচিত।
সিএনএন লিখেছে, যদি তার এ কথাই সত্যি হয়ে থাকে তাহলে মেলানিয়া ট্রাম্প এমন ধরনের ভিসা পেয়েছিলেন যা নির্দিষ্ট সময় পর পর নবায়ন করতে হতো। এরকম ভিসা হলো পর্যটক বা ভিজিট ভিসা। কিন্তু এ ধরনের ভিসা কাউকে দেয়া হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি পান না। এ মত নিউ ইয়র্কের অভিবাসন বিষয়ক অ্যাটর্নি ডেভিড গটফ্রায়েডের।
এখন প্রশ্ন হলো, মেলানিয়া যখন এইচ-ওয়ান বি ভিসা পেয়েছিলেন তার আগে কি তিনি একজন মডেল হিসেবে কাজ করতেন? এ ধরনের ভিসা কোনো মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছর থাকতে অনুমতি দেয়। কোন কোন ক্ষেত্রে তা বর্ধিত করে ৬ বছর করা হয়ে থাকে। মেলানিয়াকে যদি এই ভিসা দেয়া হয়ে থাকে তাহলে তাকে তা নবায়নের জন্য সেøাভেনিয়ায় ফিরে যাওয়ার কথা নয়। পাওলো জামপোলি নামের এক ব্যক্তি বলেছেন, তিনি মেলানিয়াকে ১৯৯৬ সালে একটি মডেলিং এজেন্সির মাধ্যমে এইচ-ওয়ান বি ভিসা স্পন্সর করেন। এটা ঘটে ১৯৯৫ সালে নগ্ন ছবি ধারণের এক বছর পরে। তবে মেলানিয়া ট্রাম্পের ওই নগ্ন ছবির ফটোগ্রাফার জার্ল আলে ডি বাসেভিলে বলেছেন, ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ওই কাজ করা অবৈধ নয়। কারণ, মেলানিয়া যে ছবির জন্য পোজ দিয়েছেন তার জন্য তাকে কোনো অর্থ সম্মানী দেয়া হয়নি। তারা ম্যাক্স ম্যাগাজিনের জন্য বিনা পয়সায় ওই কাজ করেছেন। বাসেভিলে সিএনএন’কে বলেছেন, নিজেকে প্রকাশের জন্য এমন ম্যাগাজিনে আপনাকে কাজ করতে হয়। নিজেকে এর মাধ্যমে প্রকাশ ঘটালে আপনি পরবর্তী ধাপে পৌঁছাতে পারবেন। কাউকে কোনো অর্থ দেয়া হয়নি। কেউ অর্থ নেয়ওনি। তবে মেলানিয়া ট্রাম্প তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়টি নিজে এবার পরিষ্কার করেননি। তিনি টুইটারে লিখেছেন, আমাকে আগে রেকর্ড দেখতে দিন। আমি যুক্তরাষ্ট্রের সব অভিবাসন আইন সব সময়ই মেনে চলেছি। এখানে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ এলে সত্যের অপলাপ। ২০০৬ সালের জুলাইয়ে আমি যুক্তরাষ্ট্রের গর্বিত নাগরিক হয়েছি। গত ২০ বছর ধরে আমি এখানে বসবাস করার, কাজ করার ও পরিবার গড়ে তোলার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। এদেশের প্রতি আমার স্বামীর যে ভালোবাসা আছে তা আমিও পোষণ করি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: