অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরী

মে ও জুলাইয়ে দুই ধাপে ৫ সিটির নির্বাচন

Print

# গাজীপুর-খুলনা সিটি নির্বাচনের তফসিল ৩১ মার্চ
# ঈদের পর রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটির তফসিল
নিজস্ব প্রতিবেদক :
আগামী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হতে পারে জুলাইয়ের শেষের দিকে। এ ব্যাপারে ইসির পক্ষ থেকে কোনো দিনক্ষণ ঠিক করা না হলেও রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই ৫ সিটির নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, পাঁচ সিটি কর্পোরেশনÑ গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এগুলোতে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে বিস্তারিত তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। আগামী ৩১ মার্চ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, সম্ভবত ৫টি সিটির তফসিল একসঙ্গে হবে না। গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা আগে হয়েছে। তাই ৩১ মার্চ এ দুই সিটির তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে এ দুই সিটির ভোটগ্রহণ কবে হবে তা বলতে পারেননি তিনি। ইসি সচিব বলেন, ‘আমরা এখনই বলতে পারবো না। নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দেবে ভোট কবে হবে।
৫ সিটির নির্বাচনের দিনক্ষণ : গাজীপুর সিটিতে নির্বাচন হয়েছে ২০১৩ সালের ৬ জুলাই। প্রথম সভা হয় ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর। আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে চলতি বছরের (২০১৮) ৪ সেপ্টেম্বর। আইন অনুযায়ী চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। অন্যদিকে খুলনা সিটিতে ভোটগ্রহণ হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর। আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। এই দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে কমিশনকে।
এদিকে সিলেট সিটিতে ভোটগ্রহণ হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইসির। রাজশাহী সিটিতে নির্বাচন হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় এ বছরের ৬ অক্টোবর। এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৫ অক্টোবর। এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে কমিশনকে। বরিশাল সিটিতে ভোটগ্রহণ হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় এই বছরের ২৪ অক্টোবর। আইন অনুযায়ী এই সিটির নির্বাচন করতে হবে ২৩ অক্টোবরের মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকালের কমিশন বৈঠকে ৫ সিটি নির্বাচনের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। আর এর আগেই ৫টি সিটি কর্পোরেশনের ভোট গ্রহণ শেষ করতে চায় কমিশন। জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে সিটি নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে ইসি। এজন্য কমিশনের মাঠ কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু নির্বাচনের দিক নির্দেশনা দিয়ে যথা সময়ে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ভোটগ্রহণের ৩৭ থেকে ৪৫ দিন আগে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার রেওয়াজ রয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী ৩১ মার্চ গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তবে ভোটগ্রহণ ঠিক কবে হবে তা তিনি জানাননি। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে আগামী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই দুই সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
বাকি তিন সিটির তফসিল ঘোষণা বা ভোটগ্রহণ কবে হবে সে বিষয়ে কমিশন থেকে কোনো ঘোষণা না এলেও আগামী জুলাইয়ের মধ্যে রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে আগামী রোজার ঈদের পরপরই (১৬ মে ঈদ) তথা মে মাসের ২০-২২ তারিখের দিকে এই তিন সিটির তফসিল ঘোষণা আসতে পারে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: