অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

যে মামলায় গ্রেপ্তার শফিক রেহমান

Print

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় অপহরণ চেষ্টা মামলায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে পল্টন থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন ডিএমপির গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. ফজলুর রহমান।

তিনি মামলাটির এজাহারে এ ঘটনার জন্য দুজন আসামির নাম উল্লেখ করলেও এর পেছনে বিএনপি নেতাদের ‘হাত আছে’ বলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের করা অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন। তবে তদন্তের খাতিরে নেতাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়।

পাঠকদের জন্য এজাহারটি তুলে ধরা হল
পুলিশ হেডকোয়ার্টাস হতে প্রাপ্ত স্মারক নং-এস/-২৮-২০১৩ (অংশ-৩) /২৬৩৫ (২) তারিখ-২৭-০৪-২০১৫খ্রিঃ এর আলোকে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রাপ্ত পত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, আমেরিকায় বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সম্পর্কে তথ্য ও আভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত দলিল সংগ্রহের জন্য ঘুষের ঘটনায় এফবিআইর একজন প্রাক্তন স্পেশাল এজেন্ট এবং আরো দুজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এফবিআইয়ের প্রাক্তন স্পেশাল এজেন্ট রবার্ট ল্যাস্টিক তার বন্ধু জোহান্স থ্যালার (৪৯) এবং জোহান্স থ্যালারের পরিচিত রিজভী আহমেদ সিজারকে গোপনীয় ও আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক দলিল এবং তথ্য সংগ্রহের বিনিময়ে অর্থ সংগ্রহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। রিজভী আহমেদ, বিএনপি এর সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংগঠন জাসাস এর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনের ছেলে।

পরবর্তীতে রিজভী আহমেদ এবং থ্যালার যথাক্রমে ৪২ মাস ও ৩০ মাসের সাজার দন্ডপ্রাপ্ত হয়েছে। ল্যাস্টিক অন্য ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে আটক আছে। এ সংক্রান্তে জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট এবং প্রেস লিলিজে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, গোপন তথ্য সংগ্রহের বিনিময়ে রিজভী আহমেদ সিজারের নিকট হতে ল্যাস্টিক ও থ্যালার কমপক্ষে ১০০০ ইউএস ডলার গ্রহণ করে।

এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন যে, তিনি সেই আদালতে ক্ষতিগ্রস্থ হিসেবে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন যে আদালতে বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাদের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনের পুত্র রিজভী আহমেদ সিজারের সাজা ঘোষণা হয়। তিনি সেখানে উল্লেখ করেন যে, বিএনপি এর উচ্চ পর্যায়ে নেতৃত্ব সিজারকে মাসে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথম দফায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার প্রদান করে।

যেহেতু তদন্ত চলছে তাই তাদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। বিএনপি তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণের পর হত্যার পরিকল্পনা করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ সংক্রান্ত বিএনপির যত উচ্চ পর্যায়ের নেতা সংশ্লিষ্টতা থাকুক না কেন সেটা খুঁজে বের করে বিচারের সম্মুখীন করার বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সকল সংসদ সদস্যগণ উপরে উল্লেখিত একই রকম অনুভূতি ব্যক্ত করেন। মাননীয় সংসদ সদস্যগণ বিএনপির নেতৃত্বের এ ধরণের ষড়যন্ত্রকে দোষারোপ করেন এবং তারা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

উপরে বর্ণিত স্মারকে প্রাপ্ত পত্র পর্যালোচনায় দেখা যাং যে, মাননীয় উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়, রাষ্ট্রদূত মহোদয়কে জানিয়েছেন যে, তিনি মনে করেন বিএনপির হাই কমান্ড তার ক্ষতি করতে পারে।

উপরের বর্ণিত প্রাপ্ত তথ্যসমূহ পর্যালোচনা করে ইতিপূর্বে প্রাথমিকভাবে রমনা মডেল থানার সাধারণ ডাইরি নং-২২৭২ তারিখ ৩১-০৫-২০১৫ খ্রি. এন্ট্রি করা হয়েছে এবং সাধারণ ডাইরি এর উপর তদন্তের জন্য বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি নেয়া হয়েছে। তদন্তকালে প্রাথমিকভাবে তথ্যা পাওয়া যায় যে, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের পূর্বে যে কোনো সময় হতে এ পর্যন্ত বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংগঠন জাসাস এর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনসহ বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা ঢাকা শহরের পল্টনস্থ জাসাস কার্যালয়ে, আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে, যুক্তরাজ্যে ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় আসামিরা একত্রিত হয়ে যোগসাজসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল।

উক্ত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করার জন্য আসামি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন এবং বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব রিজভী আহম্মেদ সিজারকে দায়িত্ব দেয়। এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ দেশ ও দেশের বাহিরে বিভিন্ন দেশ হতে অর্থায়ন করছে। এখানে উল্লেখ্য যে, উক্ত ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জাসাসের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনের পুত্র রিজভী আহম্মেদ সিজার আমেরিকার আদালতে ৪২ মাস সাজার দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছে।

বর্ণিত জাসাসের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনসহ দেশে অবস্থানরত ও দেশের বাহিরে অবস্থানরত বা বসবাসরত বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দলের কতিপয় ব্যক্তিদের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমেরিকায় অপহরণসহ হত্যার অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করে প্যানল কোড আইনের ১২০-বি ধারায় অপরাধ করেছে বিধায় উক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে বর্ণিত ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করার জন্য অত্র এজাহার দায়ের করা হল।

উপরে উল্লেখিত বিষয়ের উপর প্রাথমিকভাবে সাধারণ ডাইরি করে বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তদন্ত ও তথ্যাদি সংগ্রহ করে সরকারের অনুমোদন গ্রহণ করে মামলা করতে বিলম্ব হলো। প্রয়োজনীয় সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টসগুলো সংরক্ষণে আছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: