অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

রিও অলিম্পিকের এপিঠ-ওপিঠ

Print

স্পোর্টস ডেস্ক: রিওতে ১৭ দিনের মহাযজ্ঞের সফল সমাপ্তি দেখলো ক্রীড়া বিশ্ব। কারো জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি, কারো জীবন বাঁচাতে সুইমিংপুলে ঝাঁপ দিতে হয়নি কোনো লাইফগার্ডকে। আর খেলোয়াড়ি স্কিল ছাড়াও আসরের উদ্বোধনী থেকে সমাপনী পর্যন্ত রিওতে ক্রীড়াপ্রেমীরা দেখতে পেলেন অভিনব দৃশ্যও। এর কোনোটা ছিল অলিম্পিকের ভালো উদাহরণ। আবার কোনোটা ছিল খারাপ ও কোনোটা অসুন্দর। পরবর্তী গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমস বসবে জাপানের রাজধানী টোকিওতে। তবে তার আগে শীতকালীন অলিম্পিকস উপভোগ করবেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। ২০১৮ শীতকালী অলিম্পিকস বসবে দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচাংয়ে। এক নজরে দেখে নেয়া যাক রিও অলিম্পিকসের সেরা ১০ মুহ‚র্ত:
১০. বড় শিকার জর্ডান বারাউস: ফ্রি স্টাইল কুস্তিতে ক্যারিয়ারে তার হারজিতের সংখ্যাটা ১৩০-২। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকসে স্বর্ণপদকের গৌরব কুড়ান তিনি। তবে রিওতে একবারের খালি হাতে ফিরতে হলো এ মার্কিন কুস্তিগীরকে।
১০. জেনিংস যুগের সমাপ্তি: অলিম্পিকের মহিলা বিচ ভলিবলে টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন কেরি জেনিংস অবশেষে হার দেখলেন রিওতে। অলিম্পিকসে ২৬ ম্যাচ পর হার দেখেন এ মার্কিন বিচ ভলিবল তারকা। নতুন পার্টনার এপ্রিল রসের সঙ্গে জুটি বেঁধে এবার ব্রোঞ্জেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ৩৮ বছরের জেনিংসকে।
৮. ‘ফ্লাইং’ ফেলিক্স: অলিম্পিক ইতিহাসে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের সবচেয়ে সফল নারী অ্যাথলেটের ছবিটা এখন অ্যালিসন ফেলিক্সের। এবারের ৪.১০০ ও ৪.৪০০ মিটার রিলে দৌড়ের দু’টিসহ অলিম্পিকসে তার ঝুলিতে স্বর্ণপদকের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬-এ। এবার মেয়েদের ৪০০ মিটার দৌড়ে ফেলিক্স জেতেন রৌপ্যপদক। অলিম্পিক ক্যারিয়ারে তার মোট পদক ৯টি। মেয়েদের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ১২টি পদক রয়েছে ফিনল্যান্ডের পাভো নুরিনির। আর মার্কিন অ্যাথলেট কার্ল লুইসের রয়েছে ১০ পদক।
৭. ‘বø্যাক গোল্ড’ সিমোনা ম্যানুয়েল: গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম নিবন্ধন অফিসে ‘সিমোনা’ নামের জন্য পিতা-মাতার আবেদনপত্রের হার বেড়েছিল ২৩০%। এর অন্যতম কারণটা সিমোনা ম্যানুয়েল। রিওতে ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইল সাঁতারে স্বর্ণ কুড়ান তিনি। সিমোনা ম্যানুয়েল অলিম্পিকের ব্যক্তিগত সাঁতারে স্বর্ণজয়ী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী অ্যাথলেট সিমেনা। আসর শেষ করেন ২ স্বর্ণ ও ২ রৌপ্য নিয়ে।
৬. ড্রিম টিমের স্বপ্নপূরণ: বাস্কেটবলে আরও একাবর নিজেদের দাপুটে চেহারা দেখালো মার্কিনরা। নারী বাস্কেটবলে অলিম্পিকে টানা ষষ্ঠ শিরোপা জিতলো যুক্তরাষ্ট্র। আর লেবরন জেমস, স্টেফান কারিদের অনুপস্থিতিতেও হেসেখেলেই যুক্তরাষ্ট্র জিতলো পুরুষ বাস্কেটবলের অলিম্পিক শিরোপা।
৫. অ্যাবি-নিকির অলিম্পিক ছবি: এবারের অলিম্পিকে সহমর্মিতার সেরা ছবি এটি। মেয়েদের ৫০০০ মিটার দৌড়ের বাছাই পর্বে নিউজিল্যান্ডের নিকি হাম্বলিনের পায়ে বেজে ট্র্যাকে পড়ে গেলেন মার্কিন অ্যাথলেট অ্যাবি ডি’অগস্টিনো। এতে ট্র্যাকে দাঁড়িয়ে পড়লেন নিকিও। আগস্টিনোর দিকে হাত বাড়িয়ে টেনে তুললেন তিনি। এতে বাছাই পর্বে উভয়েই দৌড় শেষ করেন বাকিদের পেছনে। ওই আঘাতে অগাস্টিনোর গোড়ালির হাড় ভেঙে যায় । তবে আঘাত নিয়েই বাছাইপর্বের দৌড় শেষ করেন তিনি।
৪. লোকটে-হোপ সলোর ‘কীর্তি’: এবারের অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্জনটা বড়ই। ১২১টি পদক পেয়েছে তারা যা চীনের চেয়ে ৫১টি বেশি। তবে আসরে সবচেয়ে বাজে উদাহরণ দেখালেন মার্কিনরাই। ডাকাতি নাটক সাজিয়ে আলোচনায় ওঠেন অলিম্পিকের ১২ বারের স্বর্ণজয়ী সাঁতারু রায়ান লোকটে। আর মেয়েদের ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেনের কাছে হার শেষে যুক্তরাষ্ট্র তারকা হোপ সলো বলেন, আমরা একদল ভীরুর (কাওয়ার্ড) বিপক্ষে খেললাম। ম্যাচে যারা কেবল প্রতি-আক্রমণের কথা ভাবছিল।
৩. সিমোনা বাইলসের পঞ্চ সাফল্য: এবারের অলিম্পিকে তার পাঁচ স্বর্ণের সম্ভাবনা দেখছিলেন বোদ্ধারা। তবে এখানে ৪ স্বর্ণ কুড়ালেও সিমোনা বাইলসের গলায় ঝুললো পাঁচটি পদকই। মাত্র ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি দেহ গড়নের মার্কিন জিমন্যাস্ট সিমোনা বাইলস রিওতে কুড়ান মেয়েদের দলগত অল-এরাউন্ড, ব্যক্তিগত অল এরাউন্ড, ভল্ট, ও ফ্লোরের শিরোপা। তবে ব্যালেন্স বিমে পা পিছলে স্বর্ণ হাতছাড়া হয় তার। এতে তিনি জেতেন ব্রোঞ্জ পদক। অলিম্পিকের এক আসরে পাঁচ স্বর্ণ জয়ের রেকর্ড নেই কোনো জিমন্যাস্টের।
২. শেষের ঝলক ফেলপসের: রিও অলিম্পিকসে তাকে দেখা যাবে কিনা তা নিয়েই ছিল সন্দেহ। তবে ৩১ বছরের ফেলপস রিওতেও ঝড় তুললেন সাঁতারের পুলে। অলিম্পিক ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অ্যাথলেট ফেলপস এবারও কুড়ালেন ৪টি স্বর্ণ। এতে অলিম্পিকে সর্বাধিক ২৩ স্বর্ণসহ তার মোট পদকের সংখ্যাটা পৌঁছে ২৮-এ।
১. ট্র্যাকের রাজা-রানী বোল্ট-এলেইন: রাজা পুরনোই। তবে এবার নতুন রানীর আগমন দেখলো ক্রীড়াবিশ্ব। ১০০, ২০০ ও ৪.১০০ মিটার রিলের স্বর্ণ জিতলেন উসাইন বোল্ট। এতে বোল্টের পূর্ণ হয় হ্যাটট্রিকের হ্যাটট্রিক। ২০০৮ বেইজিং ও ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকসেও ট্রিপল শিরোপা কুড়ান জ্যামাইকান এ স্প্রিন্টার। রিওতে মেয়েদের ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে ডাবল শিরোপা কুড়ালেন জ্যামাইকার এলাইন থমসন। মেয়েদের স্প্রিন্টে এমন ঘটনা দেখা গেল দীর্ঘ ২৮ বছর পর। সর্বশেষ ১৯৮৮ সিউল অলিম্পিকে স্প্রিন্টের ডাবল শিরোপা কুড়ান মার্কিন লিজেন্ড ফ্লোরেন্স গ্রিফিথ জয়নার।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: