অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

শঙ্কামুক্ত ঢাকা, আশেপাশের জেলায় বন্যার অবনতি

Print

দৈনিক চিত্র রিপোর্ট : ঢাকার আশেপাশের নদীগুলোর পানি কমতে শুরু করেছে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু এবং শীতলক্ষ্যার পানি প্রতিদিন ৪/৫ সেমি. করে বাড়তে থাকায় বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে ইতিমধ্যে তা কমতে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বালু নদীর বর্ধিত পানি গতকাল বুধবার ২৩ সেমি. কমেছে। এটি অব্যাহতভাবে আরো কমতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বাপাউবোর সহকারী প্রকৌশলী রিপন কর্মকার মানবজমিনকে বলেন, ঢাকার আশপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা প্রভৃতি নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে। বালু নদীতে জোয়ার ভাটার প্রভাব থাকায় সকাল বিকাল পানি বাড়ে কমে। তবে স্বাভাবিক সময়ের রেকর্ড অনুযায়ী পানি ইতিমধ্যে কমতে শুরু করেছে। উত্তরবঙ্গের পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বালু নদীর পানিও কমার আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বালু নদীর পানি মঙ্গলবার ১৪ সেমি. কমেছে। এটা বুধবার পর্যন্ত কমেছে ২৩ সেমি.। পানি কমার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া বন্যার প্রভাবে নদীর পানি বাড়লে বালু নদীর তীরবর্তী এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছিল। তবে সেটা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কারণ, ঢাকার যে এলাকা পর্যন্ত পানি প্রবেশ করেছে সেখানে মানুষের বসবাস নেই।
বুয়েটের পানি ও বন্যা বিশেষজ্ঞ ড. একেএম সাইফুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, ঢাকার আশপাশের নদীগুলোতে সাধারণত ধলেশ্বরী, পুরাতন ধলেশ্বরী, ব্রহ্মপুত্র ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী দিয়ে পানি প্রবেশ করে। কিন্তু নদীগুলোর তীর দখল, তলদেশ ভরাট, নদী দখল ও নদীর আশপাশের জলাশয় ভরাটের কারণে এবার যথেষ্ট পরিমাণ পানি প্রবেশ করতে পারেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটা না হলে উত্তরবঙ্গ থেকে যে পরিমাণ পানি এসেছে তাতে আরো আগেই ঢাকার ভেতরে পানি প্রবেশ করতো। পূর্বের বন্যাগুলোতে দেখা গেছে, ঢাকার আশপাশের জেলা মানিকগঞ্জ, শরীয়তপুরে ঢাকার চেয়ে কম পানি প্রবেশ করেছে। কিন্তু এবার ঢাকার আশপাশে নদীর নাব্য হ্রাসের কারণে পানি প্রবেশ করতে পারেনি। পাশের জেলা মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুর জেলার দিকের চলে গেছে। যে কারণে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে তুলনামূলক বেশি বন্যা দেখা দিয়েছে।
এদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বেশ কয়েকটি জেলার নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নেমে গেছে। আগামী ৩-৪ দিনে উত্তরের বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে পরিস্থিতির আরো উন্নতি হতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও সুরমা-কুশিয়ারা নদ-নদীর পানিও অব্যাহতভাবে কমতে পারে। এর ফলে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদ-নদী সংলগ্ন গাইবান্ধা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে।
তবে উত্তর থেকে সরে এখন দেশের মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলো বন্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। পদ্মা নদী সংলগ্ন রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আগের মতো রয়েছে। আগামী এক সপ্তাহে দেশের দক্ষিণের কয়েকটি জেলাও বন্যায় আক্রান্ত হতে পারে। আর এরই মধ্যে বাংলাদেশে কিংবা সীমান্তের ওপারে ভারি বৃষ্টিপাত হলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ উভয় অংশে একসঙ্গে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: