অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ২৫শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

‘শহীদদের নিয়ে বিতর্ক করলে ব্যবস্থা’

Print

দৈনিক চিত্র রিপোর্ট: আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের মিমাংসিত শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

হানিফ বলেন, ‘বিজয়ের মাসে খালেদা হঠাত্ করেই মুক্তিযুদ্ধের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য রেখেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে গোটা জাতি তখন অবাক হয়েছিল। কারণ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যাটি মীমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করায় গোটা জাতি বিস্মিত হয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানুষ প্রথমে ভেবেছিল খালেদা জিয়া মুখ ফসকে বা একক কোনো চিন্তা থেকে এই বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার দলের নেতারা একই সুরে কথা বলা শুরু করেছেন। তখন জনগণ বুঝতে পারলো আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌম্যত্বকে নিয়ে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয় নিয়ে ও শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পাকিস্তানের গণহত্যাকে আড়াল করার জন্যই বেগম জিয়া এমন বক্তব্য রেখেছেন দাবি করে হানিফ বলেন, ‘উনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন না, স্বাধীনতাকে ধারণ করেন না। তখনও উনি পাকিস্তানি ছিলেন, এখন ২০১৬ সালেও পাকিস্তানি। পাকিস্তানের ধ্যান-ধারণাকে লালন করেন। পাকিস্তানের ভাবধারা প্রতিষ্ঠা করার কাজে লিপ্ত রয়েছেন। পাকিস্তানের গণহত্যাকে আড়াল এবং খাটো করে দেয়ার জন্য তাদের এই অপচেষ্টা।’

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাকে হয়রানি বলা যাবে না বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করার জন্য সাধারণ মানুষ ক্ষেপে গিয়ে খালেদার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এই মামলাকে কেন্দ্র করে বিএনপি দাবি করছে- জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য এবং হয়রানি করতে এ মামলা করা হয়েছে।’

‘আওয়ামী লীগ হয়রানির রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে- আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। যারা স্বাধীনতায় আঘাত করে, সার্বভৌমকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে মামলাকে হয়রানিমূলক বলা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে বাংলাদেশে বসবাস করার কোন সুযোগ নেই।’

হানিফ বলেন, ‘বিএনপির মধ্যে হঠাৎ করে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে কেন এমন দুরভিসন্ধি। এখন বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির রাজনীতি বলতে কিছু নেই। তাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তারা এখন রাজনীতি থেকে বহু দূরে ছিটকে পড়েছে, জনগণ থেকে দূরে সরে গেছে। রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। এই দেউলিয়া থেকে উত্তরণের জন্য গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধকে বেছে নিয়েছে।’

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ৩০ লাখ মেনে নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নিজেই বক্তব্য রেখেছেন দাবি করে মাহবুব-উল আলম বলেন, ‘উনি নিজেই মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। আসলে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয়, স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তারাই মুক্তিযুদ্ধের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছেন।’

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে তারাই বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে, যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিলো। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করার জন্য তারা (বিএনপি’র নেতারা) এই অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি করেন হানিফ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম তাজুল ইসলাম, সদস্য এস এম কামাল প্রমুখ।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: