অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

শাজনীন হত্যা: শহীদের মৃত্যুদণ্ড বহাল, খালাস ৪

Print

দৈনিক চিত্র রিপোর্ট : গুলশানের নিজ বাড়িতে দেড় যুগ আগে শাজনীন তাসনিম রহমানকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আপিলের চ‚ড়ান্ত রায়ে আসামি শহীদুল ইসলামের (শহীদ) মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে ৪ জনের মৃত্যুদণ্ডর সাজা বাতিল করে তাদের খালাস দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত ৫ সদস্যের বেঞ্চ গতকাল সকালে এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পাওয়া আসামিরা হলেনÑ শাজনীনদের বাসার তখনকার ঠিকাদার সৈয়দ সাজ্জাদ মইনুদ্দিন হাসান, তার সহকারী বাদল, বাসার গৃহপরিচারিকা দুই বোন এস্তেমা খাতুন মিনু ও পারভীন।
১৯৯৮ সালের এপ্রিলে গুলশানে নিজ বাসায় খুন হন ট্রান্সকম গ্রæপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী শাজনীন তাসনিম রহমান। ২০০৩ সালের ২রা সেপ্টেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত শাজনীনকে ধর্ষণ, খুন এবং এই ঘটনার পরিকল্পনা ও সহযোগিতার দায়ে শাজনীনের বাড়ির সংস্কারকাজের দায়িত্ব পালনকারী ঠিকাদার সৈয়দ সাজ্জাদ মইনুদ্দিন হাসান, তার সহকারী বাদল, বাড়ির কর্মচারী শহীদুল ইসলাম (শহীদ), বাড়ির গৃহপরিচারিকা দুই বোন এস্তেমা খাতুন (মিনু) ও পারভীন এবং কাঠমিস্ত্রি শনিরাম মÐলকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদÐ কার্যকরের রায় দেন। বিচারিক আদালতের রায়ের পর এ মামলার মৃত্যুদÐ অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য হাইকোর্টে যায়। দÐপ্রাপ্ত আসামিরাও হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০০৬ সালের ১০ই জুলাই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ পাঁচ আসামি হাসান, শহীদ, বাদল, মিনু ও পারভীনের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে রায় দেয়। অপর আসামি শনিরাম মÐলকে খালাস দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন চার আসামি হাসান, বাদল, মিনু ও পারভীন। ফাঁসির আদেশ পাওয়া আসামি শহীদ জেল আপিল করেন। ২০০৯ সালের ২৬শে এপ্রিল সাজাপ্রাপ্ত চার আসামির লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টে শনিরাম মÐলের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে তা খারিজ হয়।
গত ২৯শে মার্চ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত ৩ সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চে ফাঁসির আদেশ পাওয়া আসামিদের আপিলের শুনানি শুরু হয়। তিন সদস্যের ওই বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। গত ৫ই এপ্রিল বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ও বিচারপতি মো. ইমান আলীকে যুক্ত করে পাঁচ সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়। ৬ই এপ্রিল থেকে ওই বেঞ্চে আপিলের শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বাদীপক্ষে শুনানি করেন নজরুল ইসলাম চৌধুরী, এএম আমিনউদ্দিন ও এসএম আবদুল মোবিন। আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান। শুনানি শেষে গত ১১ই মে এ মামলার রায় যে কোনোদিন ঘোষণা করা হবে মর্মে তা অপেক্ষমাণ রাখেন আপিল বেঞ্চ।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: