অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রমযান, ১৪৪০ হিজরী

শীতে কাঁপছে উত্তরের জনপদ, দিনাজপুরে তাপমাত্রা ৫.১

Print

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর থেকে: দিনাজপুরসহ শীতে কাঁপছে উত্তরের জনপদ। শৈত্যপ্রবাহে ঘনকুয়াশা ও প্রচন্ড ঠান্ডায় নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনাজপুরে আজ রোববার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ বছরের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ইটি। যা গত দু’বছরের চেয়ে সর্বোচ্চ কম। গত ৫ দিন থেকে শৈত্যপ্রবাহে ক্রমেই নেমে আসছে তাপমাত্রা। বাড়ছে শীতের তীব্রতা। শীতজনিত বিভিন্ন রোগ-বালাই দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, বোরোর বীজতলা, আলুসহ বিভিন্ন ফসলের।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, দিনাজপুরে আজ রোববার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ বছরের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা আজ এবং যা গত দু’বছরের চেয়ে সর্বোচ্চ কম। ২০১৩ সালে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা হয়েছিলো ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শনিবার বিকেলে দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত শুক্রবার সর্বনি¤œ ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, গত বৃহস্পতিবার ছিলো ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তীব্র শীতে হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তীব্র শীত অনুভূত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। প্রচন্ড শীতের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় সন্ধ্যা হলেই দিনাজপুর শহরসহ গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে পড়ছে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না মানুষ।
গরম কাপড়ের অভাবে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ। কাজে বের হতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করছে এসব মানুষ। তারা খড়-কটো জ্বালিয়ে একটু তাপ নিতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এমন দৃশ্য প্রায় চোখে পড়ছে দিনাজপুরে। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছে শিশু বৃদ্ধারা। নিউমোনিয়া, আমাশয়, ডায়রিয়া ও শ্বাস কষ্টসহ শীতজনিত রোগির সংখ্যা বাড়ছে।
কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে বের হলেও কাজ জোটাতে পারছেন না দিনমজুর শ্রেণির মানুষরা। সকালে প্রচন্ড কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারদিক। দিনের মাঝামাঝি সময় সূর্যের দেখা মিললেও কমছে না শীতের তীব্রতা। সেই সাথে ৫ দিন ধরে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। ঘনকুয়াশার কারণে সকালে ১০ ফুট দূরেও কোনো কিছু দেখা যাচ্ছে না। সড়কে যানবাহন হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। ফলে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা।
দিনাজপুরের সদর উপজেলা উলিপুর এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, শীতের কারণে তার বোরো বীজতলা ও আলু ক্ষেতে ছত্রাক জাতীয় রোগ দেখা দিয়েছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.