অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

শেষ ম্যাচ ড্র করে সিরিজ নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ

Print

স্পোর্টস ডেস্ক : কোভিড-১৯ সতর্কতার অংশ হিসেবে স্টেডিয়ামে দর্শক প্রবেশে বিধি-নিষেধ দিয়েও কাজ হয়নি। গতকালের মত আজও ১৫ হাজারেরও বেশি দর্শক স্টেডিয়ামে বসে বাংলাদেশ বনাম নেপালের ফুটবল খেলা দেখেন। তবে আজ জয় না পেলেও হতাশ হতে হয়নি বাংলাদেশ সমর্থকদের। নেপালের বিপক্ষে মুজিববর্ষের ফিফা ফ্রেন্ডলি জিতেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে জিতে এগিয়ে থাকার সুবিধা নিয়ে গতকাল গোলশূন্য ড্র করে সিরিজ নিজেদের করে নেয় স্বাগতিকরা।

প্রথম ম্যাচে জয়ের পর রাতেই করোনা টেস্ট করানো হয় পুরো দলকে। সেখানে সবার রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে জেমি ডে’র। নিশ্চিত হতে দ্বিতীয় ম্যাচের আগের দিনেও পরীক্ষা করানো হয় তাকে।

সেখানে পজেটিভ আসলে তাকে ছাড়াই গতকাল মাঠে নামে বাংলাদেশ। ডাগআউটে জেমির জায়গায় দাঁড়ান তারই সহকারী স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশে দু’টি পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। পরিবর্তনটা মূলত রক্ষণভাগেই। গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকুর জায়গায় একাদশে ঢুকেন অভিজ্ঞ আশরাফুল ইসলাম রানা ও রক্ষণভাগে রিয়াদুল হাসানের পরিবর্তে দলে আসেন ইয়াসিন খান। তবে আগের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে দুর্দান্ত গোল করেও মাহবুবুর রহমান সুফিল এই ম্যাচের মূল একাদশে সুযোগ পাননি। আক্রমণ ভাগ ও মাঝ মাঠে ‘উইনিং কম্বিনেশন’টা এখনই ভাঙতে চায়নি বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। এতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিকরা।

ম্যাচের প্রথমার্ধে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি নেপাল। তবে বাংলাদেশ পায় এগিয়ে যাওয়ার সহজ দু’টি সুযোগ। দু’টিই নষ্ট করেন ফরোয়ার্ড সুমন রেজা। ১৮ মিনিটে বক্সের বাইরে বল পেয়ে বারের উপর দিয়ে মারেন তিনি। ৩১তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে সাদউদ্দিনের কাছ থেকে ডান প্রান্তে বল পেয়ে দারুণ এক ক্রস করেন আগের ম্যাচের গোলদাতা নাবীব নেওয়াজ জীবন। কিন্তু সেই ক্রসে পা লাগালেও তাকে গোলে পাঠাতে পারেননি সুমন। এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হারায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধ শেষে সুমনের সময়ও শেষ হয়। তার বদলে দ্বিতীয়ার্ধে নামেন আগের ম্যাচের গোলদাতা মাহবুবুর রহমান সুফিল। দ্বিতীয়ার্ধের আট মিনিটে ম্যাচে নিজেদের প্রথম সুযোগ পায় নেপাল। ডান প্রান্ত থেকে দারুণ এক ক্রস পেলেও সেটিকে কাজে লাগাতে পারেননি নেপালি ফরোয়ার্ডরা। এরপর টানা কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। ৫৭ মিনিটে সাদ বক্সে ঢুকে পড়লে, নেপালি কিপার লিম্বু সুইপার কিপার হিসেবে আটকে দেন তাকে। পরের দুই মিনিটে সুফিল ও জীবন টানা দুইবার বক্সে ঢুকে পড়লেও গোল পাওয়া হয়নি বাংলাদেশের। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে জীবনের বাড়ানো বল নিয়ে পোস্টে ঢুকেন সুফিল। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ক্যাটব্যাক করে জীবনকে। ফাঁকায় দাঁড়ানো জীবন তাতে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে অরক্ষিত গ্যালারি থেকে নেমে আসেন এক দর্শক। খেলা চলাকালীন সময়ে পূর্ব গ্যালারি থেকে নেমে আসা সেই দর্শক মাঠে ঢুকে জামাল ভূঁইয়ার সঙ্গে সেলফিও তোলেন। পরে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়। ম্যাচের শেষ দিনে নেপাল তাদের মরণ কামড় দেয় বাংলাদেশের রক্ষণে। ম্যাচের শেষ চার মিনিটে স্বাগতিকদের একেবারে দিশাহারা করে ফেলে নেপালের আক্রমণ ভাগ। একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়েন তপু-রহমতরা। এতেই ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করে বিপদ ডেকে আনেন রহমত মিয়া। কিন্তু সেই ফ্রিকিকে কাজের কাজ করতে পারেননি নেপালের অধিনায়ক ভারত খাওয়াজ। পরের মিনিটে নেওয়াজ শ্রেষ্ঠার হেড সাইড পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে গোল হজমের হাত থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ।

এবার বাংলাদেশ বেঁচে গেলেও সামনে কাতার সফরে আরো কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। সেখানে বিশ্বকাপ বাছাই খেলার জন্য আগামীকালই দেশ ছাড়ছেন জামাল-সুফিলরা। সে যাত্রায় দলের সঙ্গে করোনা আক্রান্ত জেমি ডে-এর ও যাওয়ার কথা রয়েছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: