অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে সফর, ১৪৪৩ হিজরী

শ্রীদেবীর মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন, রহস্য বাড়ছে

Print

বিনোদন ডেস্ক : গত শনিবার রাতে দুবাইয়ে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে আকস্মিকভাবে মারা যান বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবী। প্রথমে জানানো হয়, হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে তার। কিন্তু দু’দিন পর সোমবার দুবাই পুলিশ জানায়, দুবাইয়ের জুমেইরাহ এমিরেটস টাওয়ার্স নামে যে হোটেলে শ্রীদেবী ছিলেন, তার বাথরুমের বাথটাবের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তার। সামান্য উচ্চতার একটা বাথটাব। পানি ভরলেও উচ্চতা দেড় ফুটের বেশি হবে না। তাতে কী করে ডুবে গেলেন পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি উচ্চতার শ্রীদেবী? অনেকের মনেই প্রশ্নটা দেখা দিয়েছে। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা এ খবর প্রকাশ করেছে।
দুবাই পুলিশ জানিয়েছে, অচেতন অবস্থায় পানিতে ডুবে গিয়েছিলেন শ্রীদেবী। কিন্তু তিনি অচেতন হলেন কিভাবে? আর ‘হার্ট অ্যাটাকের’ বিষয়টাও উধাও হয়ে গেছে এর সঙ্গে সঙ্গে। তাহলে কি হার্ট অ্যাটাক করেননি শ্রীদেবী? এ প্রশ্নের জবাবও মিলছে না। কারণ, দুবাই পুলিশ বা দেশটির মিডিয়া সেন্টার যে তথ্য দিয়েছে, সেখানে হার্ট অ্যাটাকের কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে, অচেতন হয়ে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তার।
প্রশ্ন ওঠেছে শ্রীদেবীর স্বামী বনি কাপুরের ভূমিকা নিয়েও। কারণ, দুবাইয়ের সংবাদপত্র ‘খালিজ টাইমস’ জানিয়েছিল, বনি সেই সময় হোটেলে শ্রীদেবীর ঘরে ছিলেন। শনিবার তিনি মুম্বাই থেকে দুবাই পৌঁছন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি শ্রীদেবীর হোটেলেই পৌঁছান তিনি। এরপর স্ত্রীর সঙ্গে মিনিট ১৫ আড্ডা দেন বনি। পরে ডিনারের জন্য তৈরি হতে বাথরুমে যান শ্রীদেবী। কিন্তু, অনেকক্ষণ হয়ে গেলেও তিনি না বেরুনোয় বাথরুমের দরজা ভেঙে স্ত্রীকে উদ্ধার করেন বনি। সেখানে নাকি শ্রীদেবীকে অচেতন অবস্থায় বাথটাবের মধ্যে পান তিনি। ঘরে এনে স্ত্রীর সংজ্ঞা ফেরানোর চেষ্টা করেও কোনো কাজ হয়নি। পরে এক বন্ধুকে ডেকে স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসকরা শ্রীদেবীকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর কাপুর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হার্ট অ্যাটাকেই মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর।

এদিকে অন্য এক সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে রুম সার্ভিসে ফোন করে তার ঘরে পানি দিতে বলেন শ্রীদেবী। এর ১৫ মিনিট পর হোটেলের এক কর্মী শ্রীদেবীর ঘরে পানি দিতে গিয়ে তার কোনো সাড়াশব্দ পাচ্ছিলেন না। একাধিক বার ডোর বেল বাজানোর পরও যখন দরজা খোলেননি, তখন হোটেল কর্তৃপক্ষ বন্ধ থাকা দরজা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। ঘরে ঢুকে দেখেন, শ্রীদেবী বাথটাবে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ তথ্য সত্য হলে, বনি সেই সময় কোথায় ছিলেন?

শ্রীদেবীর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার যে রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে সেখানে বলা হয়েছে, অচেতন অবস্থায় পানিতে ডুবে মৃত্যু হয় এই নায়িকার। ময়নাতদন্তে তার শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলেও জানানো হয়। কিন্তু সেই অ্যালকোহলের পরিমাণ কতো, সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। ডেথ সার্টিফিকেটে তার অচেতন হয়ে পড়ার কথা থাকলেও অ্যালকোহলের কারণেই সেটা হয়েছিল কিনা- এ ব্যাপারে কোনোকিছু উল্লেখ নেই।

শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন ওঠে- ভাগ্নের বিয়ের পর মেয়ে খুশিকে নিয়ে মুম্বাই ফিরে এসেছিলেন বনি কাপুর। এর দু’দিন পর আবার দুবাই ফিরে যান তিনি। ওই দু’দিন হোটেলে একা ছিলেন শ্রীদেবী। এ সময়ের মধ্যে তাকে একবারের জন্যও ঘরের বাইরে দেখা যায়নি। কিন্তু কেন?
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন শ্রীদেবী? সে কারণেই তাকে বাইরে দেখা যাচ্ছিল না? তিনি কি অবসাদ কাটাতে ওষুধ খেতেন?
ভারতের একটি সরকারি হাসপাতালের এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ বলেন, আত্মহত্যা (সুইসাইডাল) বা খুনের (হোমিসাইডাল) প্রাথমিক প্রমাণ না পেলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আমরা ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ড্রাউনিং’ বা ‘দুর্ঘটনায় ডুবে মৃত্যু’ বা ‘ডুবে আকস্মিক মৃত্যু’ লিখি না। শুধু ‘ডুবে মৃত্যু’ বা ‘ড্রাউনিং’ লিখি। এবার সেটা আত্মহত্যা, নাকি খুন বা দুর্ঘটনা, তা তদন্ত করে দেখার কাজটা পুলিশের। আমাদের নয়।

ডুবে মৃত্যু কত রকমের হতে পারে- এ বিষয়ে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিন রকমের। দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে গিয়ে ডুবে মৃত্যু হতে পারে। পানিতে ডুবে আত্মহত্যা হতে পারে। কেউ ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দিয়ে খুন করতে পারে।

রিপোর্টে যা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে কোথাও বলা হয়নি, শ্রীদেবীর শরীরে বাইরে থেকে কোনো আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। বাথরুমের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করা ছিল। তাই খুন বলা যাচ্ছে না। কোনো ভারী জিনিস দেহে চাপিয়ে শ্রীদেবী বাথটাবে ডুবে আত্মহত্যা করেছেন- এমন প্রমাণও পাননি দুবাইয়ের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা।

এসব ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের ধাপ কী কী জানতে চাইলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রথমে দেখা হয় শরীরের বাইরেটা। সেখানে কোনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কিনা। তারপর দেহ কেটে হিস্টোপ্যাথলজি ও কেমিক্যাল অ্যানালিসিস করা হয়। হিস্টোপ্যাথলজিতে দেখা হয়, শরীরের কোনো অঙ্গে আগে কোনো রোগ হয়েছিল কিনা বা তার মেয়াদ ছিল কত দিনের। আর রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে বিশ্লেষণ (কেমিক্যাল অ্যানালিসিস) করে দেখা হয়, বিষ বা অন্য কোনো পদার্থ শরীরে ঢুকে মৃত্যু হয়েছে কিনা।

তবে, শ্রীদেবীর ক্ষেত্রে ডেথ সার্টিফিকেট হাতে আসার পর দুবাই পুলিশ গোটা ঘটনাটাই সরকারি কৌঁসুলির হাতে সমর্পণ করেছে। তিনি অনেক দিক খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন, শ্রীদেবীর মৃতদেহ কবে ভারতে পাঠানো সম্ভব হবে। শোনা যাচ্ছে, বনি কাপুরকে দুবাই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ওই হোটেলেও গিয়েছে তারা। সিল করে দিয়েছে শ্রীদেবীর সেই রুমও।
নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে দুবাই পুলিশ। তবে কি শ্রীদেবীর মৃত্যুর পিছনে রয়েছে অন্য কোনো রহস্য?
এদিকে সুপারস্টার শ্রীদেবীর মৃত্যুশোকে সবাই যখন পাথর, তখনই স্বাভাবিক নাকি খুন, তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত তখন এ পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। শ্রীদেবী কেবল খুনই হননি, এর পেছনে দাউদ ইব্রাহিমের যোগসাজশ আছে বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।
সাংসদ বলেন, প্রসিকিউশন কি বলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলোর কোনো ধারাবাহিকতা নেই। শ্রীদেবী কখনও মদ ছুঁয়ে দেখেননি। তাহলে তার শরীরে কীভাবে অ্যালকোহল মিলল? তখন সিসিটিভি’র কী হয়েছিল? মিডিয়ার আগেই পৌঁছে গেলেন ডাক্তাররা, আর বলে দিলেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে! এক পর্যায়ে দাউদ ইব্রাহিমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে সিনেমার অভিনেত্রীদের অবৈধ সম্পর্কের দিকটিতেও আমাদের আলোকপাত করতে হবে। ভারতীয় অনলাইন এই সময় এ তথ্য প্রকাশ করে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: