অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেছে সাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা

Print

স্টাফ রিপোর্টার : গত এক বছরের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেছে ৩৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকা। শতকরার হিসেবে এই বিক্রি কমার হার ৭১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সদ্য সমাপ্ত হওয়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকার, অথচ এর আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা।

জানা যায়, গত কয়েকবছর ধরে সঞ্চয়পত্র কেনার হার ক্রমেই বাড়ছিল। কিন্তু অবাধে বিনিয়োগ বন্ধসহ আরও কিছু ব্যবস্থা নেয়ার কারণে সঞ্চয়পত্র কেনার হার কমে আসছিল। আর এবার তা তলানিতে এসে ঠেকেছে। এছড়াও সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে সম্প্রতি কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করেছিল সরকার। এতেও সাধারণ মানুষ সঞ্চয়পত্র বিমুখী হয়েছে। করোনার জন্য সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গিয়ে টাকা তুলে নিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার কারণে দেশসহ পুরো বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য সঞ্চয়পত্র ভেঙ্গে ফেলছেন। শীঘ্রই অর্থনীতির অবস্থার উন্নতি না ঘটলে আগামীতে সঞ্চয়পত্র কেনার চেয়ে টাকা তুলে নেয়ার হার আরও বাড়বে।

বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রে একজন ব্যক্তি এক নামে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ ও যৌথ নামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়।

এছাড়াও সঞ্চয়পত্রে বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে সরকার। সঞ্চয়পত্রের ডাটাবেস সংরক্ষণ অভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয় বিধায় দুর্নীতি বা অপ্রদর্শিত আয়ের টাকা থেকে সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ নেই। এছাড়াও পূর্বের মত চাইলেই ভবিষ্যৎ তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থে সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ নেই।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, প্রধানত দুই কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে। আইনগত কড়াকড়ি এবং মহামারি করোনার সংকট। বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আয়করের হার বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আরো কিছু শর্ত জুড়ে দেয়ায় সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। এখন সহজে সঞ্চয়পত্র কেনা যায় না। করোনার আঘাতে বিপর্যস্ত অনেকে সঞ্চয় ভাঙছেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: