অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী

সন্ত্রাসী কোনো ধর্মের হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

Print

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সন্ত্রাসী কোনো ধর্মের হতে পারে না। যখনই কেউ ইসলামিক টেরোরিস্ট বলে, আমি সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিবাদ করি। সামান্য কয়েকটি লোক ইসলামকে হেয় করতে পারে না। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে আলেমদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। গতকাল সকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ জমি’আতুল উলামা আয়োজিত ‘ইসলামের দৃষ্টিতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে মানবিক, উদার, শান্তি-সৌহার্দ্য ও সহনশীলতার ধর্ম ইসলাম। সবচেয়ে দুঃখ লাগে যখন সামান্য কিছু লোক ধর্মের নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাস চালাচ্ছে, মানুষ হত্যা করছে। আমাদের পবিত্র ধর্মকে হেয় করছে। তিনি আরো বলেন, যারা সন্ত্রাস করে, মানুষ হত্যা করে, তারা আদৌ কোনো ধর্মে বিশ্বাস করে কিনা, তা ভেবে দেখা দরকার। জঙ্গিরা কোরআনের বাণীকে অস্বীকার করছে। তিনি কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করে বলেন- সন্ত্রাস ও দুর্যোগ সৃষ্টিকারীদেরকে আল্লাহ পছন্দ করেন না। অথচ জঙ্গিরা সন্ত্রাস ও দুর্যোগ সৃষ্টি করে, মানুষ হত্যা করে জান্নাতে যেতে চায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা কোরআন-হাদিস ও ইসলামের পবিত্র বাণী মানবে না, নামাজ না পড়ে মানুষ খুন করতে যায়, তারা কী করে বেহেশতে যাবে? তারা কী করে ভাবে, তারা মানুষ খুন করে বেহেশতে যাবে! ইসলামের মহান বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আলেম সমাজের প্রতি আহŸান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সারা দেশের মানুষের মধ্যে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একটা চেতনা সৃষ্টি হয়েছে। এ চেতনাকে আরো শাণিত করতে হবে। মানুষকে আরো ভালোভাবে বোঝাতে হবে যে, জঙ্গিবাদের পথ ইসলামের পথ নয়। কেউ যেন সন্ত্রাসের পথে না যায়। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করতে হবে। বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর দিক প্রত্যেকে প্রত্যেকের ধর্ম পালনে সহযোগিতা করে। এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের উৎসবে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে থাকে। লক্ষাধিক আলেমের ঐক্যবদ্ধভাবে দেয়া ফতোয়াকে সময়োপযোগী ও মহৎ কাজ উল্লেখ করে তিনি আলেমদেরকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। তিনি দেশের মানুষকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সচেতন করতে আলেমদের সক্রিয় ভ‚মিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে আলেম সমাজের পক্ষ থেকে কওমি মাদরাসা সনদ দেয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়নের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সনদ দিতে হলে ন্যূনতম একটি কারিকুলাম দরকার। আমরা কওমি মাদরাসা কমিশন গঠন করে দিয়েছি। কিন্তু কওমি মাদরাসার পাঁচটি বোর্ড একমত হতে পারেনি। সবাই একমত হন অথবা যারা আগ্রহী, তারা একমত হন, আমরা বাস্তবায়ন শুরু করে দেব। সারা দেশে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় ৫৬০টি মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আমরা প্রতি উপজেলায় একটা মসজিদ ও একটি ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাই। এ ক্ষেত্রে সৌদি বাদশাহ সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন বলেও তিনি সুসংবাদ দেন।
সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রাপ্ত খুঁজে বেড়াচ্ছি, কোথাও আইএস খুঁজে পাইনি। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ জমি’আতুল উলামার সভাপতি ও শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসউদ বলেন, ইসলাম উদারতা ও সহনশীলতার ধর্ম। কিছুসংখ্যক মতলববাজ ইসলামকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ইসলামে অনর্থক গাছের পাতাও ছেঁড়া নিষেধ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা মনে করে, মানুষ হত্যা করে বেহেশতে চলে যাবে, তারা আসলে জাহান্নামে যাবে। যারা মানুষ হত্যা করে, আত্মহত্যা করে, তারা উভয়ই জাহান্নামে যাবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: