অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রমযান, ১৪৪২ হিজরী

সরকারকে কঠোর দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ টিআইবির

Print

অনলাইন ডেস্ক: বিদেশে ঘুষ লেনদেনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য সহযোগীদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় দেশসমূহের অব্যাহত ও হতাশাজনক ব্যর্থতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সরকারকে কঠোর দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ নেয়ারও তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগের কথা জানায় টিআইবি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এটি খুবই হতাশাজনক যে, বিশ্বের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশগুলো বিদেশে ঘুষ লেনদেন বন্ধের বিষয়ে তাদের প্রদত্ত আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি পালনে আশংকাজনকভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

এই ব্যর্থ দেশগুলোর তালিকায় সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে থাকা চীন, জাপান, ভারত, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরসহ নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলোর অনেকেই আবার বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগী।

তাই বৈদেশিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতিবিরোধী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা সরকার, বৈদেশিক বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ এবং অন্যান্য সকল অংশীজনদের সতর্ক করছি।

অন্যদিকে যেসব দেশ জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন (ইউএনসিএসি) এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) ঘুষবিরোধী কনভেনশন অনুযায়ী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাদের কূটনৈতিক মিশন ও অন্যান্য প্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমরা বৈদেশিক ঘুষ লেনদেনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈদেশিক ঘুষ লেনদেনের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের বিষয়ে জি-২০ এর অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহের অর্ধেকই আশংকাজনকভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, বিশ্বের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে খুব স্বল্পসংখ্যকই বিদেশে ঘুষ লেনদেনকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

বার্লিনে অবস্থিত টিআই সচিবালয় পরিচালিত দ্বিবার্ষিক ‘দুর্নীতি রপ্তানি ২০২০: ওইসিডি ঘুষবিরোধী কনভেনশন প্রয়োগের মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৮ সালের পর থেকে বৈদেশিক ঘুষ লেনদেনের বিরুদ্ধে সক্রিয় আইন প্রয়োগের উদাহরণ আশংকাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

এসময়কালে বৈদেশিক ঘুষ এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশের সংখ্যা এক তৃতীয়াংশেরও বেশি কমেছে।

গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৪৭টি দেশের মধ্যে বিশ্বের রপ্তানি বাণিজ্যের ১৬.৫ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করা মাত্র চারটি দেশ বৈদেশিক ঘুষ লেনদেনের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে আইন প্রয়োগ করেছে।

অথচ ২০১৮ সালে এমন দেশের সংখ্যা ছিল সাতটি, যারা মোট বৈশ্বিক রপ্তানি বাণিজ্যের ২৭ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করতো। বাস্তবিকভাবে ৪৭টি দেশের মধ্যে ৩৪টি দেশ কার্যত এ সংক্রান্ত আইনের কোনো প্রয়োগই করেনি।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ চীন ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বৈদেশিক ঘুষ লেনদেনের বিরুদ্ধে একটি তদন্তও শুরু করতে পারেনি, অথচ চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বেশকিছু কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে এবং অনেক দেশই তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।

২০১৬ থেকে ২০১৯ সময়কালে ওইসিডি বহির্ভূত কিন্তু রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ আরও দুটি দেশ ভারত ও হংকংও বৈদেশিক ঘুষ লেনদেনের বিরুদ্ধে একটিও তদন্ত করেনি। গত চার বছরে সিঙ্গাপুর মাত্র একটি ঘটনায় তদন্ত করেছে এবং একটি মামলায় শাস্তি নিশ্চিত করতে পেরেছে।

‘প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ’ এ কথা উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা এমনিতেই সর্বব্যাপী দুর্নীতির চক্রে আষ্টেপৃষ্ঠে আবদ্ধ।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: