অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

সাক্ষ্য দিলেন ৩ পুলিশ সদস্য

Print

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান নামের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৩ পুলিশের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. জিহাদুর রহমান ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। তাদের জবানবন্দিতে রায়হানকে কীভাবে ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং কারা তার উপর নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ছিল তা বিস্তারিত উঠে আসে। যাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে তারা হলেন, পুলিশ সদস্য সাইফুল, দেলোয়ার এবং শামীম। সোমবার বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বিচারক তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জানা যায়, ওই তিন পুলিশ সদস্য ঘটনার সময় (১০ অক্টোবর দিবাগত রাতে) বন্দরবাজার ফাঁড়িতে দায়িত্বরত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে নগরীর নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান আহমদকে গুরুতর আহতাবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহী। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রায়হানের মৃত্যু হয়। শুরুতে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।

কিন্তু পরে রায়হানের পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকার জন্য পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হানকে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হলে সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী বাদি হয়ে হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে মামলা দায়ের করলে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেনসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিন জনকে প্রত্যাহার করা হয়। বরখাস্তের পর ১২ অক্টোবর থেকে গা ঢাকা দেন এসআই আকবর।

আপাতত মামলার সুষ্ঠু তদন্ত কার্যক্রম চলমান রাখার উদ্দেশ্যে তদন্তভার পিবিআই এর উপর অর্পণ করা হয়েছে। পিবিআই এর তদন্তের স্বার্থে মরদেহ কবর থেকে তুলে আবারও ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এসময় রায়হানের শরীর থেকে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, যার ১৪টি ছিল প্রাণঘাতী। এছাড়াও রায়হানের দুই হাতের দুটি নখও উপড়ানো ছিল।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: