অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

সাখাওয়াতের ফাঁসি, ৭ জনের আমৃত্যু দণ্ড

Print

দৈনিক চিত্র রিপোর্ট: একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জাতীয় পার্টির নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য সাখাওয়াত হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গতকাল এ রায় দিয়েছেন। ৭৬৮ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্তাংশ পড়ে শোনান তিন বিচারপতি। রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হওয়ায় আসামি সাখাওয়াতকে মৃত্যুদণ্ড, অন্য সাত আসামিকে আমৃত্যু কারাদÐ ছাড়াও আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদÐ দেন ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগে চারজন, দ্বিতীয় অভিযোগে আটজন, তৃতীয় অভিযোগে চারজন, চতুর্থ অভিযোগে পাঁচজন এবং পঞ্চম অভিযোগে ছয়জন আসামি ছিলেন। ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত রায়ে দ্বিতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাখাওয়াত হোসেনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দিয়েছেন আদালত। আমৃত্যু কারাদÐের আদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন-মো. বিল্লাল হোসেন বিশ্বাস, মো. ইব্রাহিম হোসাইন, শেখ মো. মজিবুর রহমান, এম এ আজিজ সরদার, আবদুল আজিজ সরদার, কাজী ওহিদুল ইসলাম ও মো. আবদুল খালেক মোড়ল। ঘোষিত রায়ে পাঁচ অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদÐ পেয়েছেন দÐপ্রাপ্তরা। প্রমাণিত প্রথম অভিযোগে সাখাওয়াত, ইব্রাহীম, এম এ আজিজ সরদার ও আবদুল আজিজকে ২০ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে সাখাওয়াত (মৃত্যুদণ্ড) ছাড়া অন্য সাতজন আমৃত্যু কারাদÐের সাজা পেয়েছেন। তৃতীয় অভিযোগে সাখাওয়াত, মজিবুর ও আবদুল খালেক মোড়লকে ১০ বছর কারাদÐ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রমাণিত চতুর্থ অভিযোগে সাখাওয়াতকে মৃত্যুদণ্ড এবং এমএ আজিজ সরদার, আবদুল আজিজ সরদার ও আবদুল খালেক মোড়লকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। প্রমাণিত পঞ্চম অভিযোগে সাখাওয়াত, ইব্রাহীম, এম এ আজিজ সরদার, আবদুল আজিজ সরদার এবং আবদুল খালেক মোড়লকে ১৫ বছর করে কারাদÐের আদেশ দেয়া হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবে। তবে পলাতক আসামিদের আপিল করতে হলে তাদের আত্মসমর্পণ করতে হবে। দÐপ্রাপ্তদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন ও বিল্লাল হোসেন রায়ের সময় ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকি ছয়জনকে পলাতক দেখিয়েই দÐ ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। মো. লুৎফর মোড়ল এ মামলার আসামি ছিলেন। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা যান তিনি। তাকে মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়। গতকাল ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত রায়ে সন্তুষ্ট নন উল্লেখ করে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেনের আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে গত ১৪ই জুলাই এই মামলার রায় যে কোনোদিন ঘোষণা করা হবে মর্মে তা অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, নির্যাতন, অপহরণসহ পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। গত বছরের ২৩শে ডিসেম্বর আসামিদের অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে একই বছরের ৮ই সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। চলতি বছরের ৩১শে জানুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ও আসামিদের বিরুদ্ধে ১৭ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। তবে, আসামিপক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী ছিল না। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও রেজিয়া সুলতানা চমন। অন্যদিকে সাখাওয়াতের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান ও কুতুবউদ্দিন আহমেদ। জাতীয় পার্টির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন এক সময় জামায়াত ও বিএনপির রাজনীতি করতেন। এ ছাড়া এলডিপি ও পিডিপির রাজনীতিও করেছেন তিনি। প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ২৬শে নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে ২৯শে নভেম্বর রাজধানীর উত্তরখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: