অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রমযান, ১৪৪০ হিজরী

সাঘাটা জুমারবাড়ী মডেল স্কুলে শতভাগ জিপিএ ৫

Print

সাঘাটা(গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : বাংলাদেশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৭ সালের প্রাইমারী স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ‘জুমারবাড়ী ইউপির জুমারবাড়ী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়’ শতভাগ পাশ ও জিপিএ-৫ পেয়ে জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে এবং ৬৪ জন পরীক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পেয়ে সকলেই কৃতকার্য হয়। বিগত ৭ বছরের প্রতিবারই বিদ্যালয়টির পাসের হার শতভাগ।
জানা গেছে, জুমারবাড়ী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯০৩ সালে স্থাপিত হয়। শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ১১ জন থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ৯ জন দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে প্রায় এক বছর থেকে ১ টি পদ শুন্য ও অপর ১ জন মাতৃকালীন ছুটিতে আছেন। শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকার কারণে এক সিফটে পাঠদান দেয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দুই সিফটে দিতে হচ্ছে। বিগত ২০/০২/২০১১ইং তারিখে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন মো শরিফুল ইসলাম সোহাগ।
প্রধান শিক্ষকের যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন হয়েছে। তার নিরলস প্রচেষ্টায় পাশের হার হয়েছে শতভাগ।
২০১১ সালে প্রাইমারী স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় মোট ৪৯ জন অংশগ্রহন করে এর মধ্যে ৫ জন জিপিএ-৫ ও ৪৪জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেড । ২০১২ সালে সালে প্রাইমারী স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় মোট ৩৪ জন অংশগ্রহন করে এর মধ্যে ৮ জন জিপিএ-৫ ও ২৬ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেড। ২০১৩ সালে প্রাইমারী স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় মোট ৫০ জন অংশগ্রহন করে এর মধ্যে ১৪ জন জিপিএ-৫ ও ৩ ৬জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেড। ২০১৪ সালে প্রাইমারী স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় মোট ৪৬ জন অংশগ্রহন করে এর মধ্যে ২৭ জন জিপিএ-৫ ও ১৯ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেড। ২০১৫ সালে প্রাইমারী স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় মোট ৫০ জন অংশগ্রহন করে এর মধ্যে ৪১ জন জিপিএ-৫ ও ০৯ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেড। ২০১৬ সালে প্রাইমারী স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় মোট ৬২ জন অংশগ্রহন করে এর মধ্যে ৩৯ জন জিপিএ-৫ ও ২৩ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেড এব। ২০১৭ সালে প্রাইমারী স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় মোট ৬৪ জন অংশগ্রহন করে এর মধ্যে ৬৪ জন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতকার্য হয়।
২০১৭ সালের প্রাইমারী স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ফারিহা প্রধান বর্ষা, শাহাদৎ হোসেন, জেরিন তৃষা, শিপন মিয়া বলেন, এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সন্তানের মত আমাদের প্রতি লক্ষ রাখতেন। আমাদের সকল সুবিধা-অসুবিধা শিক্ষকরা লক্ষ রাখতেন। আমাদের পড়ালেখা ভাল হওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষকের ভূমিকা অপরিহার্য।
২০১৭ সালের প্রাইমারী স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের সঠিক দিক নির্দেশনায় আমাদের ছেলে মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করেছে। তাছাড়া বিদ্যালয়ে খুব যতœ সহকারে তারা লেখাপড়া করাতেন। স্কুলের ক্লাশ ছাড়াও কোন বেতন ছাড়াই অতিরিক্ত ক্লাশ এবং সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়ার কারণে আমাদের স্কুলের বাহিরে অতিরিক্ত বেতন দিয়ে কোন প্রাইভেট বা কোচিং করাতে হয়নি। এজন্য এতো ভালো রেজাল্ট হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আমাদের স্কুল যে সুনাম অর্জন করেছে তা আমাদের সকল শিক্ষকের আন্তরিকতা এবং প্রধান শিক্ষকের দক্ষতার কারণেই হয়েছে। তাছাড়াও আমরা খুবই যতœ সহকারে ক্লাশ নিয়েছি ১৫ দিন পর পর মডেল টেষ্ট নিয়েছি। মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাশ নিয়েছি এবং সকল শিক্ষার্থীদের গ্রুপিং করে কাজ দিয়ে দুর্বল শিক্ষাথী ও সবল শিক্ষার্থী বাছাই করে দুর্বলদের জন্য আলাদা ক্লাশের ব্যবস্থা করেছি। এসব কিছুর কারণে এবার আমাদের প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ভালো রেজাল্ট করেছে। এটাই আমাদের সকলের স্বার্থকতা।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো শরিফুল ইসলাম সোহাগ বলেন, আমি যখন এই বিদ্যালয়ে যোগদান করি তখন আসবাবপত্র ও পরিবেশ এমনটা ছিল না। এই প্রতিষ্ঠানকে আমি সন্তানের মত ভালবাসি। ব্যতিক্রম ধর্মী প্রতিষ্ঠন গড়ার স্বপ্ন এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। তারই ধারাবাহিকতা এখন এ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারছি।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোকলেছার রহমান বলেন, স্কুলের প্রতিটি শিক্ষক যথা সময়ে স্কুলে আসে এবং সঠিক ভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করান। তারা পাঠদানে কোন প্রকার দায়িত্বহীনতা করেন না। প্রধান শিক্ষক খুবই দক্ষতার সাথে স্কুলের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তবে সকল শিক্ষকের আন্তরিকতায় এবারের প্রাইমারী স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী ফলাফল হয়েছে। এভাবে স্কুল পরিচালনা করলে ‘জুমারবাড়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ একদিন উত্তর বঙ্গের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্কুল হিসাবে পরিচিতি লাভ করবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.