অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২শে মহররম, ১৪৪১ হিজরী

স্টেডিয়ামের সেই ‘বংশীবাদক রাজা’ আর নেই

Print

স্পোর্টস ডেস্ক : সব সময় থাকতেন রাজার বেশে। হাসি-খুশি উচ্ছল। বেশ-ভুষা ছিল নবাব সিরাজ-উদ দৌলার মতো। তবে যে পোশাকেই থাকতেন না কেন হাতে থাকতো বাঁশি। বাংলাদেশের খেলা থাকলে হাতে লম্বা বাঁশি নিয়ে স্টেডিয়াম হাজির হতেন। বাংলা একাডেমীর মেলা মাঠেও ছিল তার অবাধ বিচরণ। ভাষা শহীদদের ভাস্কর্যের সামনের দাঁড়িয়ে আপন মনে বছরের পর বছর বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ দিতেন মানুষকে। তার বাঁশির সুরে মাতোয়ারা হয়ে উঠত স্টেডিয়াম থেকে বইমেলা প্রাঙ্গণ।
বাংলাদেশের ক্রীড়া ও বইপ্রেমীরা এমন দৃশ্য আর দেখবে না। রাজার পোশাক পরে বাঁশি বাজিয়ে মানুষকে আনন্দ দেওয়া সেই বংশীবাদক রাজা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন খান আর নেই। লিভার, ডায়াবেটিসসহ নানা সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী দিনে না ফেরার দেশে চলে যান এই মুক্তিযোদ্ধা ও বংশীবাদক। অসুস্থ অবস্থায় কেউ তাঁর খোঁজ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তার বড় ছেলে জুয়েল মোহাম্মদ জানান, গত বছর বাবার চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু বিসিবি সেই সাহায্য তো করেইনি, এমনকি শয্যাশায়ী থাকাকালে রাজার সঙ্গে দেখা করতেও যায়নি দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটির কেউ।
জুয়েল বলেন, ‘বিসিবির কাছে লিখিত আবেদন করে সাহায্য চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা সাড়া দেয়নি। শুধু বিসিবিই না, চ্যানেল আইয়ের হয়েও এত প্রোগ্রাম করল আমার বাবা। তারাও কোনো সাহায্য করতে এগিয়ে এলো না। মৃত্যুর আগে বাবার চাওয়া ছিল। টাকা না দিত, অন্তত অসুস্থ অবস্থায় তাকে দেখে যেত। কিন্তু বাবার সেই চাওয়াও পূরণ হয়নি। আক্ষেপ নিয়েই চলে গেলেন বাবা। ক্রিকেটার রুবেল, তামিম বলেছিলেন বাবাকে দেখা করতে। কিন্তু তাদের সঙ্গে দেখা করার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। ওপারে তিনি যিনি ভালো থাকেন।’
বংশীবাদক রাজা মুক্তিযুদ্ধে ৮ নম্বর সেক্টরে আবু ওসমান চৌধুরীর নেতৃত্বে হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নেননি তিনি।
এ প্রসঙ্গে জুয়েল বলেন, ‘আমার বাবা ১৬ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। কিন্তু তিনি কখনো সার্টিফিকেট নেননি। তার কথা ছিল, দেশের জন্য যুদ্ধ করছি, এ জন্য আবার সার্টিফিকেট/টাকা-এসব নেব কেন? বাবা বলতেন, যেখানে অনেকে যুদ্ধ না করেও সার্টিফিকেট পেয়েছে, সেখানে এই জিনিস না হলেও চলবে। তবে ইদানীং যখন আমরা বলতাম, এই সার্টিফিকেট পেলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা অনেক সুবিধা পেয়ে থাকে, তখন বাবা বলতেন, সার্টিফিকেট না নেওয়াটা ভুল ছিল।’




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.