অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১০ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে বাংলাদেশ

Print

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পক্ষে নিজেদের পরিষ্কার অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ২৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস উপলক্ষে গতকাল পৃথক বার্তায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, জাতীয় স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ তার পাঠানো ভিডিও বার্তায় বলেন, আন্তর্জাতিক সংহতি দিবসে বাংলাদেশ ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রদানের বিষয়টি পুনরায় ব্যক্ত করছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা পূর্ব জেরুজালেমের সাথে ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে আল কুদস আল-শরিফকে রাজধানী করে দ্বি-রাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে আমাদের নীতিগত অবস্থানের বিষয়টি পুনরুল্লেখ করছি।’

আব্দুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিকনির্দেশনা ও আমাদের সংবিধানের সাথে সংগতি রেখে, বাংলাদেশ সবসময় সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগ্রামরত মানুষকে সমর্থন দিয়ে এসেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণহত্যার যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতিই আমাদের ফিলিস্তিনিদের ওপর হওয়া অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা যুগিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর বহু বছর ধরে অন্যায় করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এই সংকটের দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। এই নীতির আলোকে বাংলাদেশ মিয়ানমারের ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্র্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে এবং এই সংকটের একটি টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বার্তায় জানান, ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেম-আল কুদস আল-শরীফকে রাজধানী করে দ্বি-রাষ্ট্র নীতির ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে আমার দেশের অবস্থান আমি পুনরুল্লেখ করছি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকেই তার এই অবস্থানে অটল রয়েছে। ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণহত্যার যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতিই আমাদের ফিলিস্তিনিদের ওপর হওয়া অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা যুগিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর বহু বছর ধরে অন্যায় করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এই সংকটের দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

বাংলাদেশ নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর দখলদার বাহিনীর শক্তি প্রয়োগের জোরালো বিরোধিতা করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতাই ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশার জন্য দায়ী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর আধিপত্য বিস্তারের মনোভাব এবং অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘনে অবসান ঘটানোর আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ফিলিস্তিনে মানবাধিকার রক্ষায় এবং জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী আরব পিস ইনিশিয়েটিভ ও কার্টেট রোড ম্যাপের আলোকে শান্তিপূর্ণ এবং টেকসই সমাধানে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।

সূত্র : বাসস।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: