অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

হাসনাত ও তাহমিদ ৮ দিনের রিমান্ডে

Print

স্টাফ রিপোর্টার: গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনায় নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম এবং কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদ হাসিব খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে গুলশান ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি ছিল, ২রা জুলাই হলি আর্টিজান থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। এদিকে গতকাল হাসনাত করিম ও তাহমিদ হাসিব খানের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মাসুদুর রহমান জানান, গুলশান আড়ংয়ের সামনের রাস্তা থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে হাসনাত করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাত পৌনে ৯টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাহমিদকে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, যারা প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন তাদের সবাইকে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে তা বিশ্লেষণ করেছি। তাদের বক্তব্য এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে হাসনাত করিমের ব্যাপারে সন্দেহ হয়েছে। উপ-কমিশনার বলেন, ভিডিও ফুটেজে তাদের বডি ল্যাংগুয়েজ দেখে বিচলিত মনে হয়নি। এছাড়া আগের জিজ্ঞাসাবাদে তারা যে তথ্য দিয়েছে তাতেও আমাদের সন্দেহ ছিল। তাদের কিছু কিছু বিষয় ও কথায় অমিল দেখা গেছে। তারা যে তথ্য দিয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। এসব কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, রিমান্ডে তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অনেককে আনা হয়েছিল। কিন্তু আমার জানামতে গতকাল পর্যন্ত এ মামলায় ৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
তাহমিদ হাসিব খান আফতাব বহুমুখী ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে রহিম খান শাহরিয়ারের ছেলে। তিনি কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং কানাডার স্থায়ী নাগরিক। ১লা জুলাই গুলশান হামলার দিনই দুপুরে ঢাকায় আসেন তাহমিদ। হাসনাত করিম বাংলাদেশ ও বৃটেনের দ্বৈত নাগরিক। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে বাবা মোহাম্মদ রেজাউল করিমের আর্কিটেক্ট ফার্মে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনার দিন মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে তিনি হলি আর্টিজানে পরিবার নিয়ে খেতে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।
একজন কোরিয়ান নাগরিকের গোপনে ধারণ করা হলি আর্টিজানে হামলার ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর হাসনাত করিম ও তাহমিদের ভ‚মিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। ঢাকার নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষকের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। হলি আর্টিজানের জিম্মি ঘটনায় তাকে জঙ্গিদের কয়েকজনের সঙ্গে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাঁটতে ও কথা বলতে দেখা গেছে।
এদিকে আর্টিজান ঘটনার পর প্রায় খোঁজ ছিল না এই দুই ব্যক্তির। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, হাসনাত করিম ও তাহমিদকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের মধ্যেই আছে। তাদের আমরা একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। বলা হয়, হয়তো যে কোনো কারণে তারা বাসায় অবস্থান না করে অন্য জায়গায় অবস্থান করছেন। তারা কোথায় আছেন এটা মোটামুটি আমাদের ধারণায় রয়েছে। আমরা চাইলে তাদের পাবো।
এর আগে হাসনাত করিমের পরিবার গত মাসের মাঝামাঝিতে জানায়, জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর গত ২রা জুলাই রাতে তার সঙ্গে তাদের দেখা হয়। এরপর আর দেখা হয়নি। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, হাসনাত তাদের হেফাজতে নেই। তখন একই ধরনের কথা বলা হয় তাহমিদের পরিবারের পক্ষ থেকেও।
৮ দিনের রিমান্ড : এদিকে হাসনাত করিম ও তাহমিদ হাসিব খানের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গুলশান হামলার ঘটনায় গতকাল আদালতে হাজির করে তাদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির। ঢাকা মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালতে শুনানি শেষে তাদের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হাসনাত করিম নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের একজন সক্রিয় সদস্য। হাসনাত করিমের সহযোগী তাহমিদ। বিভিন্ন সময় হাসনাতকে সাহায্য করে তাহমিদ। আবেদনে আরো বলা হয়, হলি আর্টিজানে হামলার দিন জঙ্গিরা তাদের নিজস্ব যোগাযোগের জন্য ডবিøউআইসিকেআর নামে একটি অ্যাপস ব্যবহার করে। হাসনাত করিমের মোবাইলে ওই অ্যাপসটি পাওয়া গেছে। জঙ্গিরা রাত ৮টা ৪৪ মিনিটে হলি আর্টিজানে ঢোকে। এরপর রাত ৮টা ৫৭ মিনিটে তার মোবাইলে ওই অ্যাপটি ডাউনলোড করা হয়। এসব ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাসনাত ও তাহমিদের রিমান্ড আবেদন করা হয়। অন্যদিকে তাদের আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা খারিজ করে ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: