অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী

হিলারির অন্যরকম পরীক্ষা

Print

অনলাইন ডেস্ক: এরই মধ্যে ইতিহাস গড়েছেন হিলারি ক্লিনটন। এখন অপেক্ষা ওই ইতিহাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধান কোনো রাজনৈতিক দল থেকে নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হয়েছেন তিনি। আসছে নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করতে পারলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ম্যাডাম প্রেসিডেন্ট। সেটা যদি করতে পারেন তাহলে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ উত্তরণ করতে সক্ষম হবেন তিনি। সেটি হলো একটি রাজনৈতিক দলকে টানা ৩ মেয়াদে হোয়াইট হাউসে নিয়ে যাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রে টানা তিন মেয়াদে একটি দলের প্রেসিডেন্সির ইতিহাস ঠিক হিলারির পক্ষে নয়। সে কারণেই এটা হিলারির জন্য অন্যরকম একটি চ্যালেঞ্জ। টানা ৩ মেয়াদের গেরো তিনি খুলতে পারবেন কি না সেটা দেখার জন্য শুধু মার্কিনিরা নন, মুখিয়ে আছে সারা বিশ্ব। গত বছর হিলারির জীবনসঙ্গী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘যেকোনো দলের জন্য হোয়াইট হাউসে ১২ বছর থাকাটা কঠিন।’ ফ্রাংকলিন ডি. রুজভেল্টের রেকর্ড ৪ মেয়াদের পর ১৯৪৮ সালে টানা পঞ্চমবারের মতো ডেমোক্রেটদের জন্য জয় এনে দিয়েছিলেন হ্যারি ট্রুম্যান। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের টানা তিন নির্বাচনে জয়ের ঘটনা ঘটেছে মাত্র একবার। সেটা হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। সে বছর ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডবিøউ বুশ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড রিগ্যানের দুই মেয়াদের পর জয়ী হয়েছিলেন। এ ছাড়া ১৯৪৮ সালের পর এ কৃতিত্ব কোনো প্রার্থীর নেই। হিলারি ক্লিনটনের সামনে এখন সেই চ্যালেঞ্জ। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করার পর হিলারি ক্লিনটন দলকে ফের ক্ষমতায় নিয়ে যেতে পারলে সেটা হবে ডেমোক্রেটদের জন্য অন্যরকম এক ইতিহাস। আর হিলারির জন্য অনন্য এক অর্জন। এখন পর্যন্ত যেসব প্রার্থী দলের দুই মেয়াদের পর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন তা জেনে নেয়া যাক।
প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট আইসেনহাওয়ারের দুই মেয়াদের পর রিপাবলিকান প্রার্থী রিচার্ড নিক্সন ১৯৬০ সালে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। ১৯৬৮ সালে পারেননি ডেমোক্রেটিক প্রার্থী ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হুবার্ট হামফ্রে। প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি এবং লিনডন জনসনের পর তিনি চেষ্টা করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের দুই মেয়াদের পর ডেমোক্রেটিক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর ২০০০ সালে জর্জ ডবিøউ বুশের কাছে হেরে যান। জুনিয়র বুশের দুই মেয়াদের পর ২০০৮ সালে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছে পরাজিত হন রিপাবলিকান প্রার্থী জন ম্যাকেইন। প্রশ্ন হলো, কেন তৃতীয় মেয়াদে এসে একটি দলের প্রার্থী মার্কিন নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হন।
প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক ইতিহাসবেত্তা জুলিয়ান জেলিজার বলছেন, ‘প্রেসিডেন্সির সময় যত দীর্ঘায়িত হবে, প্রতিপক্ষের জন্য সমালোচনা করার সুযোগ তত বেড়ে যায়। অন্য কথায় বলতে গেলে, ভোটারদের অসন্তুষ্ট হওয়ার জন্য কারণ বেড়ে যায়।’ মার্কিন মুল্লুকের অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, উনিশ শতকের শেষ দিকে এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ক্ষমতাসীন দলকে পুনরায় নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে ভোটারদের অপেক্ষাকৃত বেশি আগ্রহ ছিল। ১৮৯৬ সালে তিন রিপাবলিকান প্রার্থী উইলিয়াম ম্যাককিনলে, থিওডর রুজভেল্ট এবং উইলিয়াম হাওয়ার্ড টাফট টানা চার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জিতেছিলেন। ১৯১২ সালে ডেমোক্রেট উড্রো উইলসন নির্বাচন জিতে রিবাপলিকানদের আধিপত্যে ছেদ টানেন। উইলসনের ৮ বছরের পর মার্কিনিরা ফের রিপাবলিকান দলের প্রার্থীকে ওভাল অফিসে পাঠায়। এ দফায় রিপাবলিকান দল টানা তিনবার জয়ী হয়। ১৯২০ সালে ওয়ারেন হার্ডিং, ১৯২৪ সালে কেলভিন কুলিজ এবং ১৯২৮ সালে হার্বার্ট হুভার। এরপরই আমেরিকা বিরাট অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি হয় যা ‘দ্য গ্রেট ডিপ্রেসন’ বলে পরিচিত। সে সময় ক্ষমতায় আসে প্রেসিডেন্সিয়াল ইতিহাসে বিরল নজির স্থাপনকারী ফ্রাংকলিন রুজভেল্ট। ১৯৩২ ও ১৯৩৬ সালে নির্বাচন জেতার পর তিনি দু’মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার ঐতিহ্য ভেঙে দেন। ২য় বিশ্বযুদ্ধ যখন আসন্ন তখন ১৯৪০ সালে টানা তৃতীয়বার জয়ী হন। ১৯৪৪ সালে ফের জেতেন রুজভেল্ট। পরের বছর তার মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেন হ্যারি ট্রুম্যান। ১৯৪৮ এর নির্বাচনে ডেমোক্রেটদের জয়ের ধারা ৫ এ নিয়ে যান তিনি। এরপর থেকে রিগ্যানের পর সিনিয়র বুশ ওভাল অফিসে আসা ছাড়া ভোটাররা প্রেসিডেন্ট বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে এক দল থেকে অপর দলের প্রতিই ঝুঁকেছে। এবারের নির্বাচনে সেই ধারা পাল্টে দেয়ার অন্যরকম এক চ্যালেঞ্জ এখন হিলারির সামনে। বারাক ওবামার দুই মেয়াদের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারদের তৃতীয়বারের মতো ডেমোক্রেট শিবিরে তিনি টানতে পারবেন কি না সেটাই দেখার বিষয়। এ উত্তর পেতে আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। তিন মাসের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে হিলারি কি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন নাকি ‘তৃতীয় মেয়াদের অভিশাপ’ আখ্যা পাওয়া ধারাই বলবৎ থাকবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: