অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

‘হে আল্লাহ বিবাদ, মারামারি, হানাহানি খতম করে দিন’

Print

গাজীপুর থেকে সংবাদদাতা : হে আল্লাহ হেফাজত করুন। বিশ্বের সকল মুসলমানকে হেফাজত করুন। মুসলিম দেশগুলোকে হেফাজত করুন। হে আল্লাহ দুনিয়ার সব মুসলমানকে এক শরীরে পরিণত করে দিন। মুসলমানদের দিলে মহব্বত প্রতিষ্ঠা করে দিন। হে আল্লাহ বিবাদ, মারামারি, হানাহানি খতম করে দিন। এ দুনিয়ার জীবনকে শান্তির জিন্দেগি, জান্নাতের জিন্দেগি বানায়ে দিন। হে আল্লাহ আমাদেরকে আপনার বন্দেগি করার তৌফিক দিন। আপনার প্রিয় হাবিবের (সা.) সুন্নাত অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তৌফিক দিন। এভাবেই বিশ্ব ইজতেমায় প্রথমবারের মতো বাংলা ভাষায় আখেরি মোনাজাত করা হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোনাজাতের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ জোবায়ের। তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে আবেগ-আপ্লুত লাখো মুসল্লি ‘আমিন’ ‘আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলেন টঙ্গীর তুরাগ তীরের বিশ্ব ইজতেমা প্রাঙ্গণ।
আখেরি মোনাজাতকে ঘিরে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাগানো মাইকে সেই ধ্বনি তুরাগ নদের চারপাশের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মোনাজাত শুরু হয়ে শেষ হয় বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে।
ইজতেমা ময়দানে ছুটে আসা ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অশ্র“সিক্ত নয়নে নিজ নিজ গুনাহ মাফ ও আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর সমৃদ্ধি, সংহতি, অগ্রগতি এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ইজতেমা প্রাঙ্গণে সশরীরে এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসভবন থেকে আখেরি মোনাজাতে শরিক হন।
আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে রোববার ভোর থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ভোরের কুয়াশা ও তীব্র শীত উপেক্ষা করে তবুও মোনাজাতে শরিক হন লাখো মুসল্লি। মানুষ পায়ে হেঁটে ইজতেমা ময়দানে পৌঁছান। বহু নারীও এসেছেন মোনাজাতে অংশ নিতে। তবে ময়দানে ঢোকার অনুমতি না থাকায় তারা আশপাশের বিভিন্ন কারখানা ও আবাসিক ভবনের ছাদে অবস্থান নিয়ে এতে শরিক হন।
আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে টঙ্গী, গাজীপুর, উত্তরাসহ আশপাশের এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা, বিপণি বিতান ও অফিস ছিল বন্ধ। মোনাজাত শেষে ইজতেমাস্থল থেকে বাড়ি ফেরার সুবিধবার জন্য বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা থাকলেও সবার একসঙ্গে বাড়ি ফেরার তাড়াহুড়ায় টঙ্গীর কামারপাড়া সড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, টঙ্গী- কালীগঞ্জ সড়কের আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতু ও আশপাশের সড়ক-মহাসড়ক এবং সংযোগ সড়কগুলোতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. রাহাত হাসনাত জানান, মুসল্লিদের সুবিধার্থে ১৯টি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে আজ। এছাড়া সব আন্তনগর ট্রেন টঙ্গীতে যাত্রাবিরতি করবে। বিআরটিসি দুই শতাধিক স্পেশাল বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে জানান তিনি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.