অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

১০ মামলায় খালেদার জামিন

Print

স্টাফ রিপোর্টার: নাশকতা, রাষ্ট্রদ্রোহ, বড়পকুরিয়া কয়লা খনি ও নাইকো দুর্নীতিসহ ১২টি মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দুই মামলায় আগে জামিনে থাকলেও গতকাল ১০ মামলায় জামিন পেয়েছেন তিনি। একই দিনে ঢাকার পৃথক চারটি বিচারিক আদালতে হাজিরাসহ আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। বেলা পৌনে ১২টা থেকে দুপুর পৌনে তিনটা পর্যন্ত আদালতে অবস্থান করেন তিনি। এর আগে সকাল ১০টায় গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি আদালতে উপস্থিত হন। আদালতে খালেদা জিয়ার হাজিরাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পৃষ্ঠা ২০ কলাম ১
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা হয় পুরান ঢাকার আদালতপাড়ায়। আদালত প্রাঙ্গণ, জনসন রোড, ইংলিশ রোড, রায়সাহেব বাজার মোড়, ভিক্টোরিয়া পার্কসহ পুরো আদালত পাড়ায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, সাদা পোশাক পরিহিত গোয়েন্দা সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। দায়রা জজ আদালতের ফটকে বসানো হয় দুটি আর্চওয়ে। আদালতের প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি করার পরই ঢুকতে দেয়া হয় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের। এ সময় আইনজীবীদের দেখাতে হয় পরিচয়পত্র। বিএনপি নেত্রী সকাল পৌনে ১২টায় আদালত পাড়ায় পৌঁছে প্রথমে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির হন। রাজধানীর দারুস সালাম থানার গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেয়ার অভিযোগে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে তার নামে দেয়া ৮টি অভিযোগপত্রভুক্ত মামলায় এবং একই আদালতে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা তার জামিন মঞ্জুর করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের পাঁচ মামলার অভিযোগ গতকাল আমলে নেন আদালত। এর আগে আরো তিন মামলা আমলে নিয়েছিলেন আদালত। গতকাল অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামী ১০ই অক্টোবর আটটি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেন বিচারক। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নিয়ে কট‚ক্তির অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গত ৩রা মার্চ আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন আদালত। সেদিন খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করলে ৫ই এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেন আদালত। এরপর ওইদিন খালেদা জিয়া সিএমএম আদালত থেকে জামিন নেন। পরে এ মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি মূলে আসে। গতকাল এ মামলায় জামিন পান খালেদা জিয়া। ৯ মামলায় জামিন নিয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে দুপুর দেড়টায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২ এর আদালতে যান খালেদা জিয়া। গতকাল এ মামলার অভিযোগ গঠনে শুনানির দিন ধার্য ছিল। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করলে বিশেষ জজ আদালত-২ এর বিচারক হোসনে আরা বেগম সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ৮ই সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। দুপুর ২টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ-৯ এর আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দেন খালেদা জিয়া। গতকাল এ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। খালেদার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া এই মামলার বিষয়ে উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বলে আদালতকে অবহিত করেন। শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক এম আমিনুল ইসলাম সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ১৬ই সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। দুপুর সোয়া ২টার দিকে খালেদা জিয়া দারুস সালাম থানার নাশকতার মামলায় হাজির হওয়ার জন্য সিএমএম আদালতে যান। ঢাকা মহানগর হাকিম নুরুন নাহার ইয়াসমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। সব মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন মহানগর দায়রা আদালতের কৌঁসুলি আব্দুল্লাহ আবু, অতিরিক্ত পিপি শাহ আলম তালুকদার। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল। এদিকে, খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা উপলক্ষে সকাল থেকে ঢাকার আদালতপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্কাবস্থায় দেখা যায়। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত, মহানগর দায়রা জজ আদালতের মূলফটকসহ আদালত প্রাঙ্গণে নেয়া হয় কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন। একই সঙ্গে নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আইনজীবীদের বাকবিতÐার ঘটনাও ঘটে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার হাজিরা দেয়া উপলক্ষে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছেন। বিশেষ করে উঁচু দালানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্যই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিএনপি ও অঙ্গ দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী পুরান ঢাকা আদালতের আশপাশের এলাকায় জড়ো হয়। তারা বিভিন্ন রাস্তার মুখে অবস্থান নিয়ে খালেদা জিয়ার আদালতে অবস্থানকালীন পুরো সময় ¯েøাগান দেয়। প্রথমে দায়রা জজ কোর্টের সামনে এবং পরে সিএমএম কোর্টের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, সহ-সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, আশরাফ বাবু, যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মিয়া রাসেল, মফিজুর রহমান আশিক, ফয়েজ উল্লাহ ফয়েজ, আবদুল করিম সরকারসহ কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কয়েকশ’ নেতাকর্মী ¯েøাগান দেয়। অন্যদিকে সকাল থেকেই শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে কোর্ট এলাকায় অবস্থান নেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ইয়াসিন আলী, মহানগর দক্ষিণের লিটন মাহমুদ ও রফিক হাওলাদারসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: