অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী

১৪ই আগস্ট সাকা চৌধুরীর স্ত্রী-পুত্রের বিরুদ্ধে মামলার রায়

Print

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর পুরান ঢাকার আদালতের সামনের সড়কে গাড়ি থামিয়ে সাদা পোশাকধারীরা হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। তিনি যুদ্ধাপরাধ মামলায় ফাঁসি হওয়া বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ছেলে। হুম্মাম কাদের চৌধুরীর মা ফরহাত কাদের চৌধুরী জানান, যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ের কপি ফাঁসের মামলায় হাজিরা দিতে তারা নিম্ন আদালতে যাচ্ছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতের সামনের সড়কে হঠাৎ একদল সাদা পোশাকধারী সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের গাড়ি থামায়। তারপর হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে গেছে। তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান বিষয়টি জানেন না বলে সংবাদকর্মীদেরকে জানিয়েছেন।
হুম্মামের মা ফরহাত কাদের চৌধুরী আরো বলেন, ওই সময় তাদের পরিচয় এবং ছেলেকে কোথায় নেয়া হচ্ছে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা তাকে চুপচাপ গাড়িতে বসে থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, অন্যথায় তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে। এরপর তারা যথারীতি আদালতে হাজিরা দেন। তাদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে জানান, হাজিরা দিতে আসার সময় আদালতের সামনের রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে সাদা পোশাকধারী সশস্ত্র একদল লোক হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে তুলে নিয়ে গেছে। ফরহাত কাদের চৌধুরী জানান, আদালতে ঘটনাটি জানানো হয়েছে। তারপর আদালতে আমাকে জামিন দিলেও হুম্মাম কাদেরসহ মামলার হাজিরার অন্য আসামিদের জামিন বাতিল করেছে। ফরহাত কাদের চৌধুরী জানান, ঘটনার পর থেকে পরিবারের লোকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজখবর নিচ্ছে। কিন্তু কোথাও হুম্মামকে পাওয়া যাচ্ছে না।
ফরহাত কাদের চৌধুরী বলেন, আগামী ১৪ই আগস্ট মামলাটির রায়ের দিন ধার্য রয়েছে। রায়ের আগে আসামির জামিন বাতিল হতে পারে। মামলার অন্য আসামিদের সঙ্গে তার জামিনও বাতিল হতে পারতো। কিন্তু এভাবে রাস্তা থেকে তুলে নেয়ায় তাকে আমরা এখন খুঁজে পাচ্ছি না। এটা তো দুঃখজনক।
এদিকে ঘটনার সময় একই গাড়িতে থাকা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করে বলেন, তাকে আটকের জন্য গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সদস্যরা গত বুধবারও ধানমন্ডির বাড়ির কাছে রেকি করে। ওই দিন বিকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে বের হয়ে বিমানবন্দরের কাছে গল্ফ ক্লাবে যাওয়ার পথে এক মোটরসাইকেলে চড়ে ২ আরোহী তাদের গাড়ির পিছু নেয়। বেশ কিছুক্ষণ অনুসরণের পর বনানী এলাকায় মোটরসাইকেলটি পিছিয়ে পড়ে। আর আমাদের খুঁজে পায়নি। নয়তো সেদিনই গ্রেপ্তার করা হতো। পরদিন বৃহস্পতিবারও সকাল থেকে বাসার বাইরে মোটরসাইকেল আরোহী দু’ব্যক্তিকে বাসার আশেপাশে নজরদারি করতে দেখা যায়। সকাল ১১টার দিকে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, তার মা ফরহাত কাদের চৌধুরী এবং গাড়িচালকসহ আমি আদালতের উদ্দেশে রওনা দেই। একই সময় মোটরসাইকেল আরোহীরা আমাদের পিছু নেয়। প্রায় পৌনে একঘণ্টা পর আদালতের কাছে পৌঁছুলে মোটরসাইকেলের এক আরোহী মোবাইলে অন্য কারও সঙ্গে কথা বলে। এরপর আরো ৪ সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্য রাস্তায় নেমে আসে। নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেয়। তবে তাদেরকে পরিচয়পত্র বহন করতে দেখা যায়নি। গাড়ি যেদিক থেকে আসে, তাকে নিয়ে সেদিকেই নিয়ে যাওয়া হয়। আমিও তাদের সঙ্গে যেতে চাইলে নেয়া হয়নি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: