অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

২৪% মানুষের সামাজিক নিরাপত্তায় ‘চাই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা’

Print

ঢাকা: বাংলাদেশে এখনও ২৪ শতাংশ মানুষের দরিদ্র সীমার নিচে থাকার তথ‌্য তুলে ধরে তাদের সামাজিক নিরাপত্তায় সরকারের উদ‌্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় নেওয়ার সুপারিশ এসেছে এক আলোচনা অনুষ্ঠান থেকে।

রোববার ঢাকায় বাংলাদেশ ইন্টারনেশনাল ইনস্টিটিউট অব স্টাটেজিক স্ট্যাডিজ মিলনায়তনে ‘স্কোপ অব এডাপটিপ সোশাল প্রটেকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনায় এই সুপারিশ করা হয়।

ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও উন্নয়ন সমুন্নয়ের যৌথ আয়োজনের এই সভায় বন্যা, খরা ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য নানামুখী পেশা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শও আসে।

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে বিআইআইএসএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মাহফুজ কবির বলেন, বাংলাদেশে এখন মোট জনগোষ্ঠীর ২৪ দশমিক ৮০ শতাংশ দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে, যাদের সংখ্যা চার কোটি ১৯ লাখ। ১২ দশমিক ৯ ভাগ রয়েছে অতিদরিদ্রসীমার নিচে।

“বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এসব মানুষজন চরম দুর্দশার শিকার হন। কারণ এসব ক্ষেত্রে তাদের সঞ্চিত খাদ্য শেষ হয়ে যায়।”

এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কবির বলেন, দেশে ২৮ দশমিক ৪৩ ভাগ বাড়ি-ঘর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির শিকার হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ‌্যা ৪ কোটি ৮১ লাখ। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৪ সালের টানা এক হিসাবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ।

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে এই গবেষক বলেন, “নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব, প্রাপ্তবয়ষ্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতির মাত্রা ভিন্ন হয়। তাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।”

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীন আহমেদ চৌধুরী বলেন, দুর্যোগ সতর্কতা ও ব্যবস্থাপনার কাজে নারী প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় অংশগ্রহণ না থাকা তাদের ভোগান্তির কারণ।

“দুর্যোগের সময় পুরুষ স্বেচ্ছাসেবক কিংবা প্রতিনিধিদের কাছে প্রান্তিক অঞ্চলের নারীরা তাদের সব সমস্যা খুলে বলতে পারেন না। তাই এক্ষেত্রে নারীদের নেতৃত্বে আনা প্রয়োজন।”

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ বলেন, সরকার যে ভিজিএফ, জিআর ক্যাশ, ভিজিডি এসব কার্ডের মাধ্যমে যে ত্রাণ দেয় তাতে সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষা করা সম্ভব নয়। এটি একটি সাময়িক সমাধান।

‘দারিদ্রসীমার নিচে অবস্থানকারীদের নিরাপত্তায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।’

সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নে ত্রাণ কার্যক্রমের মতো সাময়িক পদক্ষেপকে ‘অ্যাডপটেবল বা মানানসই’ মানতে রাজি নন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এ কে এনামুল হকও।

‘জরুরি মুহূর্তে রিলিফ কার্যক্রমকে কোনোভাবেই আমি সমন্বয়মূলক কাজ বলে মনে করি না। এটা বিশেষ মুহূর্তে একটি বিশেষ উদ্যোগ যা দিয়ে সমস্যার সাময়িক সমাধান হয়। টেকসই ও কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা বিধান করতে হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান ও আয়ের পথ নিশ্চিত করতে হবে।’

অ‌্যাকশন এইড বাংলাদেশের আবাসিক পরিচালক ফারাহ কবির বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ হতে হবে দীর্ঘমেয়াদী, নারী-শিশু ও প্রবীণবান্ধব। ত্রাণ তৎপরতার চেয়েও বেশি প্রয়োজন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

দৈনিকচিত্র.কম/এম




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: