অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

৩ বছর ধরে বাড়ি ভাড়া দেন না যে উপাচার্য….

Print

অনলাইন ডেস্ক : পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(পাবিপ্রবি) উপাচার্য ড. এম রোস্তম আলীর বিরুদ্ধে টানা ৩ বছর বাড়ি ভাড়া না দিয়ে অবৈধভাবে সরকারি বাসভবনকে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর নীতিমালা তোয়াক্কা না করে সুকৌশলে উপাচার্যের বাসভবনটি গেস্টহাউস ঘোষণা করে বাড়ি ভাড়া ফাঁকি দিচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি গণমাধ্যমের কাছে আসা উপাচার্যের বেতন বিলেও বাড়ি ভাড়া পরিশোধ না করার প্রমাণ মিলেছে। উপাচার্যের এহেন কান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিব্রত বোধ করছেন। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তে নেমেছে দুদক।

উপাচার্যের নিয়োগপত্রের নীতিমালা থেকে জানা যায়, উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক অবস্থান করবেন।’ সে কারণেই পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আগে থেকেই প্রায় ৪ বিঘা জমিতে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে উপাচার্যের বাসভবন তৈরি করে দেওয়া হয়।

সেই বাড়িটি গেস্টহাউস ঘোষণা করার এখতিয়ার রোস্তম আলীর নেই বলে জানিয়েছেন ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘নিজের মতো নীতিমালা বানিয়ে বাড়ি ভাড়া কর্তন না করা আইনসিদ্ধ নয় এবং তা নিয়মবহির্ভূত’। কোনো অজুহাতেই উপাচার্যের জন্য বরাদ্দকৃত বাড়ি গেস্টহাউজ হিসেবে ঘোষণা করার কোনো সুযোগ নেই। এটি আইন বহির্ভূত কর্মকান্ডের আওতায় পরে।

এমন কাণ্ডের প্রতিবাদ করেছেন পাবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। পাবিপ্রবির সহযোগী অধ্যাপক ড. এম আবদুল আলীম বলেন, ‘উপাচার্যের বাসভবনটি গেস্টহাউস দেখিয়ে বিধি মোতাবেক ভাড়া না কাটলেও তাঁর রাজশাহীর বাড়ির বুয়ার বেতন থেকে শুরু করে সমুদয় খরচ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে নিয়েছেন। এ দুই বাড়ির জন্য উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যত কর্মচারী খাটান এবং যত অর্থ ব্যয় করেন তা বহন করা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সম্ভব কিনা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। বিষয়টি সবার জন্য বিব্রতকরও বটে।’

এ ব্যাপারে পাবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ ড. আনোয়ার পারভেজ খস্রু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার কোনো বাসস্থান নেই। তাই উপাচার্যের গেস্টহাউজে ভাড়া দিয়ে থাকি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সেটি উপাচার্য ভালো বলতে পারবেন।

তবে বাংলোকে গেস্টহাউস করায় কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন পাবিপ্রবি উপাচার্য ড. এম রোস্তম আলী। তিনি বলেন, ‘উপাচার্যের জন্য বরাদ্দ বাড়িটির কারিগরি ত্রুটি রয়েছে। এটা কোনো বাংলোই হয়নি। তা পরিত্যক্ত ফেলে না রেখে গেস্টহাউস করায় বিশ্ববিদ্যালয় কিছু টাকা পাচ্ছে।’




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: